লুট হওয়া ২৭ অস্ত্র ও গুলির হদিস নেই, জনমনে শঙ্কা
- যৌথবাহিনীর অপারেশনের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্রসহ কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে দাবি পুলিশের।
- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘কম্বিং অপারেশনের’ মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানালেও এখনও পর্যন্ত তা উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই।
- ২৭টি অস্ত্র উদ্ধার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে হাসিনা সরকারের পতন হয়। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। এ সময় কারাগার থেকে ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, আট হাজারেরও বেশি গুলি লুট করে নিয়ে যায় এবং বন্দী থাকা ৮২৬ কয়েদির সবাই পালিয়ে যান। লুট হওয়া ৮৫টি অস্ত্রের মধ্যে ৫৮টি অস্ত্র ও পাঁচ হাজারেও বেশি গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও গত দেড়বছরে বাকি ২৭টি অস্ত্র ও তিনহাজার গুলির কোনো হদিস নেই বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। আর এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চায়নিজ রাইফেল ও শটগানের মত ভারি অস্ত্র। এসব ভারি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার বা খবর না হওয়ায় জেলা জুড়ে বেড়েছে খুন, ডাকাতি ও ছিনতানইয়ের মত ঘটনা।
এছাড়াও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের আশঙ্কায় জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জেলাবাসী রয়েছে শঙ্কায়। আর এসব অস্ত্র সহ সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন: প্রেমের টানে ফ্রান্স থেকে লক্ষ্মীপুরের গ্রামীণ জীবনে ফরাসী তরুণী
তবে যৌথবাহিনীর অপারেশনের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্রসহ কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে দাবি জেলা পুলিশের।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গেল এক বছরে এ জেলায় শতাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব খুনের বেশিরভাগই ঘটেছে পারিবারিক, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে।
আরও পড়ুন: মোহনগঞ্জে বিকাশের টাকা উদ্ধার
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নির্বাচনকে ঘিরে জেলার সর্বত্রই হয়ে ওঠে অশান্ত, বাড়ে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। লুট হওয়া অস্ত্রসহ জেলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এখনও না হওয়ায় ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সম্প্রতি গত ১০ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নরসিংদী সফরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন নরসিংদীর আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নে শীঘ্রই সেনা, পুলিশসহ যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালিত হবে। এখানে সন্ত্রাসীর আড্ডা অনেক বেশি, অনেক হাতিয়ার আছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কম্বিং অপারেশনের মাধ্যমে এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানালেও এখনও পর্যন্ত তা উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। আর এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় সমাজের পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনের জন্যও রয়েছে বড় হুমকি। তাই
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত লুট হওয়া অস্ত্র ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি দ্রুত আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করতে হবে।
এবিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.কলিমুল্লাহ বলেন, জেলা কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের বেশিরভাগ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও বেশকিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অনুযায়ী লুট হওয়া বাকি ২৭টি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।





