আগামীকাল থেকে বন্ধ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি এগিয়ে এনে আগামীকাল সোমবার (৯ মার্চ) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে।
রোববার (৮ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক ক্যালেন্ডারে উল্লেখিত ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরুর নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার না করা, জানালা ও দরজা খোলা রেখে আলো ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত লাইট বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান আলোর অন্তত অর্ধেক ব্যবহার করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সিদ্ধান্ত বদল ঢাবির, ৯ মার্চ থেকেই শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি
এছাড়াও অফিস চলাকালীন অপ্রয়োজনীয় লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কক্ষ ত্যাগের সময় বাতি, ফ্যান ও এসিসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, অফিসের করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমে অপ্রয়োজনীয় আলো বন্ধ রাখতে হবে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। অফিস সময় শেষে লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার ও স্ক্যানারসহ সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার এবং সরকারি যানবাহনের ব্যবহার সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করতে সব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।





