লক্ষ্মীপুরে সন্তানের পরিচয় শনাক্তে ৫ বছর পর কবর থেকে প্রবাসীর মরদেহ উত্তোলন
উচ্চ আদালতের আদেশে লক্ষ্মীপুরে এক শিশু কন্যার পিতৃ পরিচয় শনাক্ত করতে দাফনের প্রায় ৫ বছর পর কবর থেকে আবদুল মান্নান নামে এক প্রবাসীর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নের গঙ্গাপুর গ্রামে ওই প্রবাসীর পারিবারিক কবরস্থান থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মোহাম্মদ নাহিদের নেতৃত্বে সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার কমলা শীষ রায়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে শ্রমিক নেতাদের মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ
নিহত আবদুল মান্নান সদর উপজেলার হামছাদি ইউনিয়নের মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে। তিনি পেশায় কুয়েতপ্রবাসী ব্যবসায়ী ছিলেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী আবদুল মান্নান প্রবাস জীবনে বিপুল সম্পদের মালিক হন। তিনি বিবাহের পূর্বেই হার্নিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে অপারেশনের ফলে সন্তান জন্মদানে অক্ষম হয়ে পড়েন। ২০০৮ সালের ১ মে লাহারকান্দি ইউনিয়নের রুহুল আমিনের মেয়ে সাবিনা ইয়াছমিন সুইটিকে বিবাহ করেন। বিবাহের পর স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর প্রবাসে দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান লাভ করতে পারেননি তারা। এ জন্য দফায় দফায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েও ব্যর্থ হন আবদুল মান্নান দম্পতি।
আরও পড়ুন: পাচারচক্রের হাত থেকে শিশু উদ্ধার, পাচারকারী নারী গ্রেফতার
এরপর মৃত্যুর পূর্বে ৪-৫ বছর নানা জটিল রোগ ও খাদ্যনালীতে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২ বছর ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ডিসচার্জ হয়ে দেশে ফেরেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১ জুন ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবদুল মান্নান।
এদিকে আবদুল মান্নানের মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পূর্বে স্ত্রী সাবিনা ইয়াছমিন সুইটির গর্ভে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এতে সৃষ্টি হয় বিরোধ। মৃত্যুর পূর্বেই আবদুল মান্নান তার আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীকে কন্যা সন্তানটি তার নয় বলে জানিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন স্বজনরা।
আবদুল মান্নানের মৃত্যুর পর স্ত্রী সুইটি স্বামীর ওয়ারিশ দাবি করে সমস্ত সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে নিহত আবদুল মান্নানের মা কাজল রেখা, ভাই শওকত, রাজু ও রুমা আক্তার বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুরের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আবদুল মান্নানের স্ত্রী সাবিনা ইয়াছমিন সুইটি ও কন্যা সন্তান আয়েশা মনিকে (নাবালিকা) বিবাদী করা হয়।
দীর্ঘ শুনানি ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে রায় দেন। পরবর্তীতে বিবাদী আবদুল মান্নানের স্ত্রী সুইটি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলে হাইকোর্ট কন্যা সন্তান আয়েশা মনির পিতৃ পরিচয় শনাক্ত করতে আবদুল মান্নানের লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন। এ প্রেক্ষিতে দাফনের প্রায় ৫ বছর পর পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মোহাম্মদ নাহিদ বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কবর থেকে আবদুল মান্নানের মরদেহ উত্তোলন করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি ঢাকার নির্দিষ্ট বিভাগে প্রেরণ করা হবে।





