নরসিংদীতে চাঁদা না দেওয়ায় সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসীদের হামলা, নির্বিকার পুলিশ
চাঁদা না দেওয়ায় নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন পেশাদার সাংবাদিকরা। হামলায় মাথাসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গুরুতর জখম হয়েছেন ৬ জন সাংবাদিক। হামলাকারীরা এ সময় অস্ত্র দেখিয়ে ভয় সৃষ্টি করেছেন এবং সাংবাদিকদের বহন করা গাড়িতে থাকা স্ত্রী ও সন্তানদের পুড়িয়ে মারার হুমকিও দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে আগে পৌঁছালে সাংবাদিকরা হামলার শিকার হতো না বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ফ্যামেডি ডে শেষে সোমবার সন্ধ্যায় বাসযোগে ঢাকায় ফিরতে গেলে নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী রাস্তার পাশে বাস পার্কিংয়ের নামে চাঁদা দাবি করে। সাংবাদিকেরা এর প্রতিবাদ করলে বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা মুহূর্তের মধ্যে জড়ো হয়ে হামলা চালায়। খবর পেয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে সন্ত্রাসীরা আরও জড়ো হয়ে রড, দেশীয় অস্ত্রসহ অন্যান্য মারনাস্ত নিয়ে হামলা চালান। এ সময় সাদা পাঞ্জাবি পড়া এক সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং গুলি করার হুমকিও দেন। তারা আরও উত্তেজিত হয়ে বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুন: ২৪-এর বিপ্লব ছিল বুলেটের বিরুদ্ধে, ১২ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব হবে ব্যালটের
হামলায় শহিদুল ইসলাম শাহেদ, মহসিন কবির, সাখাওয়াত কাউসার এবং ক্র্যাবের স্টাফ লালসহ কয়েকজন আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পরপর জেলা পুলিশ সুপারকে ফোন করা হয়। তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। কিন্তু ঘটনাস্থলে পুলিশ আধা ঘন্টা পরে পৌঁছায়, এ কারণেই হামলাকারীরা বেশি বেপরোয়া হয়ে মারধর চালায়।
আরও পড়ুন: নাসিরনগরে বিষটোপ খেয়ে গৃহবধুর আত্মহত্যা, পরিবারের অভিযোগ নিযাতনের
এ বিষয়ে নরসিংদীর পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায়। তবে পুলিশ তো আর পাখির মতো না যে সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যাবে। ঘটনায় দুইজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।”





