চুয়াডাঙ্গায় ডায়রিয়া প্রকোপ, বেড না পেয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা

Sanchoy Biswas
সনজিত কর্মকার, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:২৬ অপরাহ্ন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৩ অপরাহ্ন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় রোটা ভাইরাসের সংক্রমণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। অনেক রোগী বেড না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অন্য সময়ের তুলনায় হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগী বেশি। গত ১০ দিনে সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৪০০ জন রোগী। সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত নতুন ভর্তি হয়েছেন ৩২ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে শতাধিক রোগী।

আরও পড়ুন: বিএনপি কাজে ও কর্মে বিশ্বাস করে, সমালোচনায় নয়: মির্জা ফখরুল

এছাড়া জরুরি বিভাগ ও আন্তর্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও প্রায় ৪ শতাধিক মানুষ। এর আগে জানুয়ারি মাসের ১৫ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ৯ দিনেই ভর্তি হয়েছিলেন ৩৮০ জন রোগী।

হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছেন একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, দুই থেকে তিনজন শিক্ষানবিশ নার্স ও একজন স্বেচ্ছাসেবী। স্বল্প জনবল নিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগী সামাল দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ভোট চোরদের হাতে দেশের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না: হাসনাত আব্দুল্লাহ

জেলার সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ ফুলবাড়ী গ্রামের চায়না খাতুন বলেন, “আমার ২ বছরের মেয়ে নিতুর হঠাৎ ঠান্ডা লাগার পর ডায়রিয়া শুরু হয়। চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। বেড না পেয়ে প্রথমে বারান্দায় চিকিৎসা নিই। পরে একটা বেড পেয়েছি। ডাক্তার বলেছেন, আরও কয়েক দিন থাকতে হবে।”

একই ওয়ার্ডে ভর্তি রমজান আলী নামে এক বৃদ্ধ বলেন, “হঠাৎ বমি আর ডায়রিয়া শুরু হলে হাসপাতালে আসি। ডাক্তার ভর্তি করেন। এখন চিকিৎসা চলছে, ভালোই আছি।”

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, “শিশুদের ডায়রিয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে রোটা ভাইরাস। শুধু ডায়রিয়া হলে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেওয়া যায়। তবে ডায়রিয়ার সঙ্গে বমি বা পানি শূন্যতা দেখা দিলে অবশ্যই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে হবে।”

তিনি আরও জানান, “ডায়রিয়া থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যই ফুটানো সুপেয় পানি পান করতে হবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের কোনো সংকট নেই।”