পিরোজপুরে ১০ গ্রামে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন

Sanchoy Biswas
মো. শফিকুল ইসলাম, নাজিরপুর (পিরোজপুর)
প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ন, ২০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৮ অপরাহ্ন, ২০ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পিরোজপুরের তিন উপজেলার ১০ গ্রামে ৮ শতাধিক পরিবার শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন।

প্রতিবছর পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী এলাকার মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদে, মঠবাড়িয়া উপজেলার কচুবাড়িয়া গ্রামের হাজী ওয়াহেদ আলী হাওলাদার বাড়িতে, জেলার নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আল-আমিন মসজিদে এবং মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামের খন্দকার বাড়িতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার শুরেশ্বর গ্রামের হজরত মাওলানা আহমেদ আলী শুরেশ্বর পীরের অনুসারীরা ১৫০ বছর ধরে প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা রাখাসহ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন। এ বছরও তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ উদযাপন করেছেন।

এর ধারাবাহিকতায় জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া, কচুবাড়িয়া, সাপলেজা, ঝাটিবুনিয়া, খেতাছিড়া ও চকরগাছিয়া এ ৬ গ্রামের প্রায় ৭ শতাধিক পরিবার, জেলার কাউখালী উপজেলার বেতকা, শিয়ালকাঠী ও পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৭৫–৮০ পরিবার এবং জেলার নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের ৩৫ পরিবার, জেলার সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের কদমতলা ও একপাই জুজখোলা গ্রামের প্রায় ৬০ পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের ১০ গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন করেছেন।

আরও পড়ুন: পদ্মা নদীতে ঝড়ের কবলে ডুবে গেল সিমেন্ট বোঝাই ট্রলার

কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করেছেন মাওলানা জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, "সকাল ৮টায় আমাদের মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে বিভিন্ন গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে ঈদ উদযাপন করি।"

নাজিরপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আল-আমিন জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করেছেন মাওলানা কামরুজ্জামান। তিনি জানান, "আমরা শুরেশ্বর পীরের অনুসারী ৩৫টি পরিবার প্রায় ১৫–১৭ বছর ধরে প্রতিবছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা পালন করে আসছি। এর ধারাবাহিকতায় আজও আমরা ঈদ উদযাপন করেছি।"

শরীয়তপুরের শুরেশ্বর দরবার শরীফের মুরিদ মিরাজ খন্দকার বলেন, "আমার দাদার বাবা ইনাম উদ্দিন খন্দকার থেকে শুরু করে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করছি। মঠবাড়িয়ার প্রায় ৭ শতাধিক পরিবার ৮০ বছর ধরে এভাবে ঈদ উদযাপন করে আসছে।"

মঠবাড়িয়া সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারী এবং স্থানীয় স্কুল শিক্ষক ফারুক হাসান জানান, "সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আমরা প্রতিবছরই ঈদ-উল-ফিতর পালন করি। এবারও একইভাবে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন হচ্ছে। এ ঈদ পালনকে ঘিরে সাপলেজা ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।"

সাপলেজা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান বলেন, "ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম শুরেশ্বর পীরের অনুসারীরা প্রতিবছরের মতো একদিন আগে ঈদ-উল-ফিতর পালন করবেন। আগামীকাল শনিবার সকলের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা হবে। এটি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। সাপলেজা ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের ঈদগাহ মাঠে আজ সকাল ৯টায় পাঁচটি পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।"