মেঘনায় নিখোঁজ সেই জেলের মরদেহ উদ্ধার, বিয়ের দুই সপ্তাহেই সব শেষ

Sanchoy Biswas
কবির হোসেন রাকিব, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ন, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৪ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে চিংড়ি রেণুপোনা শিকার করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া তরুণ জেলে মো. স্বপনের (২২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের দুই দিন পর আজ বুধবার পৌনে দুইটার দিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকেই তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

মরদেহ উদ্ধারের পর নদীর তীরে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শত শত গ্রামবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় আত্মীয়-স্বজন ও সহপাঠীদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর ১৯তম শাহাদাতবার্ষিকীতে স্মরণসভা, চিকিৎসা শিক্ষায় অবদানের কথা স্মরণ

নিহত স্বপন উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খলিল কাশেমের বাড়ির মো. বাবুলের ছেলে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নবীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মই জাল দিয়ে চিংড়ি রেণুপোনা আহরণ করতে যান স্বপন। নদীতে জাল ফেলার পর সাঁতরে সেটি টানার সময় অসাবধানতাবশত তার পায়ের সঙ্গে জালের রশি পেঁচিয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি গভীর পানিতে তলিয়ে যান। সাথে থাকা অন্য জেলেরা তাৎক্ষণিক উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলন: কঠোর অবস্থানে পুলিশ, মাঠে ডিআইজি

খবর পেয়ে কমলনগর ফায়ার সার্ভিস এবং চাঁদপুর থেকে আসা ডুবুরিদের একটি বিশেষ দল দীর্ঘ সময় উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে টানা দুই দিন চেষ্টা করেও তারা স্বপনের কোনো সন্ধান পায়নি। আজ বুধবার দুপুরে ঠিক যে স্থানে তিনি তলিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানেই তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

স্বপনের প্রতিবেশী আজাদ উদ্দিন বলেন, নদীর গভীরে থাকা কোনো গাছের গুঁড়ি বা অন্য কিছুর সাথে মই জালের বাঁশ ও রশি আটকে গিয়েছিল। এ কারণে মরদেহটি দূরে ভেসে যেতে পারেনি। ডুবুরিরা খুঁজে না পেলেও দুই দিন পর একই স্থানে মরদেহ ভেসে ওঠাকে আমরা মিরাকল হিসেবে দেখছি।

এদিকে স্বপনের লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসার পর ঘরে থাকা তার নববধূ আখি আক্তার বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিয়ের মাত্র ১৪ দিনের মাথায় স্বামীকে হারিয়ে এখন অনেকটা নির্বাক হয়ে পড়েছেন তিনি।

মজুচৌধুরীর হাট নৌ-পুলিশের (ফাঁড়ি) ইনচার্জ মো. আজিজুল হক বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লাশ দাফন করার অনুমতি চেয়েছেন। তাদেরকে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আইনগত অনুমতি পাওয়ার পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে স্বপনের মরদেহ দাফন করা হবে।