ফিডে কোনো ছাড় নয়, খামারিদের কৃষক কার্ড ও সহজ ঋণ: গাজীপুরে প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:০১ অপরাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে পশুখাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একই সঙ্গে প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন খরচ কমাতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ এবং দেশের সব খামারিকে ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় গাজীপুর মহানগরীর পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এ কর্মশালার আয়োজন করে।

আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে ভূয়া এসআই পরিচয়ে গাঁজা পাচার, গ্রেপ্তার ৩

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনের প্রথম শর্ত হচ্ছে প্রাণীকে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য দেওয়া। ফিডের মান নিশ্চিত করা গেলে প্রাণী সুস্থ থাকবে এবং উৎপাদিত মাংস, ডিম ও দুধও নিরাপদ হবে। তাই ফিডের মান নিয়ন্ত্রণে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি খামার ব্যবস্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধ এবং উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: মোকামতলায় বাস-কাভার্ডভ্যান-মাইক্রোবাসের চতুর্মূখী সংঘর্ষ, আহত ২

উৎপাদন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খামার ও শিল্পে অপচয় কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। এতে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়েই উপকৃত হবেন। প্রান্তিক খামারিদের টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি সব খামারিকে ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে জেলার প্রান্তিক খামারিরা তাঁদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অতিরিক্ত গরমে সময়মতো বিদ্যুৎ না পাওয়া এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানের তুলনায় প্রান্তিক খামারিদের কম ওজনের মুরগির বাচ্চা দেওয়ার বৈষম্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন তাঁরা।

খামারিদের অভিযোগের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে। খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দাম রাখার বিষয়েও সরকারের নজর রয়েছে।

এ সময় গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্প্রসারণ পরিচালক ড. বেগম শামছুন নাহার আহম্মদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গাজীপুরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. হারুন অর রশিদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মানসম্মত ফিড নিশ্চিত করা গেলে দেশের পোল্ট্রি ও মাংস খাতে উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহজামান খান খামারিদের বাস্তব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহজামান খান, গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার)সহ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ও খামারি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।