বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু
১৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান করলো আবুল খায়ের গ্রুপ
বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চারটি পাটকল নতুন করে চালু করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপ। এর ফলে বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব কারখানার অনেক শ্রমিকের আবারও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে চালু হওয়া কারখানাগুলোতে পাটের সুতা ও বিভিন্ন ধরনের পাটজাত পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে, যার একটি অংশ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।
জানা গেছে, রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ বন্ধ হয়ে গেলে পাটকলের কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। এই কারখানা সম্প্রতি আবুল খায়ের গ্রুপ চালু করেছে। এখন এই পাটকলে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানিও হচ্ছে। শুধু রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ নয়, আরও বেশ কয়েকটি বন্ধ পাটকল চালু করেছে দেশের অন্যতম শিল্পগ্রুপ। ফরিদপুরের দাহমাশী জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, ফরিদপুর জুট ফাইবার্স ও কুস্টিয়া জুট ইন্ডাস্ট্রিজ। এই চার কারখানা এখন পাটপণ্য উৎপাদন করছে সমানতালে। ফরিদপুর ও কুষ্টিয়ায় চার পাটকল মিলে ১৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান করলো আবুল খায়ের গ্রুপ।
আরও পড়ুন: পটুয়াখালীতে ৩টি স্কুলের ৮০ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সনদপত্র ও পুরস্কার প্রদান
পাটকলগুলো থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মধ্যে ১২০ কোটি ডলার অর্থাৎ ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার পাটের সুতা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে। তুরস্ক ও চীনসহ অন্যান্য দেশে এই পাটপণ্য রপ্তানি করা হবে।
আবুল খায়ের গ্রুপের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগাল শেখ শাবাব আহমেদ বললেন, দেশের বেসরকারি খাতে অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ। সে কারণে আমরা নতুন কারখানা না করে বন্ধ কারখানা চালুর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছি। এখানে কয়েক হাজার শ্রমিক এখন কাজ করছে। এ ছাড়া সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ থাকা ৩৪টি পাটকল নেওয়ার আবেদনও করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষনে দায়ে শশুরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
গ্রুপের এক কর্মকর্তা জানালেন, বাংলাদেশের পাটের মান বেশ উন্নত। পরিবেশবান্ধব এই পণ্যের ‘সমাদৃত বাজার’ রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। সেজন্য পাটপণ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এতে একদিকে পাটচাষিদের ভাগ্য উন্নয়নে যেমন ভূমিকা রাখবে, তেমনি ভবিষ্যতে বেশি মূল্যের (ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য) পাটপণ্য উৎপাদনেরও উদ্যোগ চলমান থাকবে। চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার।
জানা গেছে, স্টিল, ঢেউটিন, সিমেন্ট, গুঁড়ো দুধ, চা, টোবাকো, সেনিটারিসহ অসংখ্য খাতে বিনিয়োগ রয়েছে। ১৯৫৩ সালে মরহুম আবুল খায়ের নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে এসে চট্টগ্রামের পাহাড়তলিতে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার ছেলেরা ব্যবসা পরিচালনা করছেন।





