ঢাকায় শুরু হলো ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:০০ অপরাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:১২ অপরাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আঞ্চলিক পর্যটন সংযোগ বাড়ানো ও টেকসই পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (ATF) ২০২৬। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (ICCB) তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। v‘Connecting Regional Tourism’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত মেলাটি চলবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এটি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, দেশের পর্যটন অবকাঠামো, সেবা, গন্তব্য ও পর্যটন পণ্যের উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত, বিনিয়োগকারী, পর্যটন ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশিদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

তিনি পর্যটন খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্যগুলোকে পরিকল্পিত ও টেকসইভাবে উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

আয়োজকদের মতে, এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার শুধু পর্যটন পণ্য ও গন্তব্য প্রদর্শনের আয়োজন নয়। এটি আঞ্চলিক পর্যটন সংযোগ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ, বিনিয়োগ, গন্তব্য বিপণন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর একটি প্ল্যাটফর্ম।

আরও পড়ুন: স্ত্রীসহ আসিফ মাহমুদের তথ্য-নথি চেয়ে দুদকের চিঠি, বিএফআইইউতে তলব

মেলার চেয়ারম্যান ও ‘পর্যটন বিচিত্রা’র সম্পাদক মহিউদ্দিন হেলাল বলেন, সরকারি-বেসরকারি খাত, পর্যটন সংগঠন, আন্তর্জাতিক অংশীদার ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় ATF এবার ১৩তম আসরে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, অংশীদারিত্ব, সংযোগ, উদ্ভাবন ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে পর্যটন বিকশিত হয়। টেকসই পর্যটনের জন্য সরকার, বেসরকারি খাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মহিউদ্দিন হেলালের ভাষ্য, পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্য শুধু নতুন গন্তব্যের প্রচার নয়। এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়, প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষিত থাকে এবং নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়।

এবারের আয়োজনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটন সংস্থা, ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইন্স, হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মেলায় রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল হল, ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ হল এবং ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট হল। বিনিয়োগ হলটিতে পর্যটন খাতের বিভিন্ন বিনিয়োগ সম্ভাবনা, প্রকল্প ও অংশীদারত্বের সুযোগ তুলে ধরা হচ্ছে।

এ ছাড়া বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং ও বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজে বিশেষ ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। দেশীয় পর্যটন পণ্য ও সেবার পাশাপাশি ঢাকা ডিনার ক্রুজসহ বিভিন্ন পর্যটন প্যাকেজও প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলায় প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা। একটি টিকিট দিয়ে তিনটি হলই পরিদর্শন করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।

তিন দিনের এ আয়োজনে B2B সভা, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, গন্তব্য বিপণন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রচার, যৌথ ট্যুর প্যাকেজ, প্যানেল আলোচনা, সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের মেলার টাইটেল স্পন্সর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। প্লাটিনাম পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট, কো-স্পন্সর ছুটি গ্রুপ, হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান, ইনভেস্টমেন্ট পার্টনার ভাইয়া হোটেলস এবং অ্যাগ্রো ট্যুরিজম পার্টনার সুখের খামার।

এ ছাড়া কনভয় সার্ভিস ট্রান্সপোর্ট পার্টনার, M360 আইসিটি পার্টনার, দ্য ট্রাভেল বাউন্ড অফিসিয়াল পাবলিকেশন, ঢাকা ডিনার ক্রুজ ক্রুজ পার্টনার এবং NRB Vistara Limited অফিসিয়াল ট্রাভেল পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ফিলিপাইন, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, আগামী ১৪তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৭ সালের ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।