পাকুন্দিয়া থানার সাবেক ওসিসহ একাধিক পুলিশের নামে মামলা

ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে গুলিবর্ষণ ও হামলার অভিযোগে পাকুন্দিয়া থানার তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহান সহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল হক উজ্জ্বল বাদী হয়ে গত ২৪ মে কিশোরগঞ্জের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। রোববার আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পাকুন্দিয়া থানাকে এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: 'বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব': হালিশহরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে নাজিমুর রহমান

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপির ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পাকুন্দিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহানের নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও স্প্লিন্টার নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশের অভিযানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অংশ নেন। এতে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে শ্রাবণ ও জলিলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রাবণের শরীরে অসংখ্য ছররা গুলি বিদ্ধ হয় এবং জলিল একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান।

আরও পড়ুন: অনলাইনে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে রংপুরে ২ জন গ্রেপ্তার

মামলায় সাবেক ওসি সারোয়ার জাহান ছাড়াও তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা নাহিদ হাসান সুমন, এসআই শাহ কামাল, আরিফ, মিজান, মজিবুর, আশরাফুল্লাহ, মিজানুর রহমান, শহিদুল্লাহ, রফিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, আওলাদ হুসাইন, আরশাদ মিয়া ও আশরাফ মোল্লাসহ একাধিক পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর নামও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাদী মাজহারুল হক উজ্জ্বল বলেন, “তৎকালীন ওসি সারোয়ার নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। বিএনপির কোনো কর্মসূচি তিনি স্বাভাবিকভাবে পালন করতে দিতেন না। তার সময়ে বহু নেতাকর্মী নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আহত অনেকেই এখনও সেই ঘটনার ক্ষত বহন করছেন। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আমরা মামলাটি করেছি।”

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পুলিশের কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে।

এদিকে, আদালতের নির্দেশে মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।