দেশের যেসব জেলায় আজ সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৭ অপরাহ্ন, ২৭ মে ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৭ অপরাহ্ন, ২৭ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। ভৌগোলিক কারণ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছরের মতো এবারও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, ভোলা ও পটুয়াখালীর বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা একদিন আগেই উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জের ২৩ গ্রামে ঈদের আমেজ

আরও পড়ুন: বাংলাবাজার পত্রিকার ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন সহজেই

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩টি গ্রামের বাসিন্দারা আজ সকাল থেকেই উৎসবের আমেজে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে সকাল থেকেই মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করতে সমবেত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাংলা বাজার এলাকার গিরদাইন পশ্চিমপাড়া, নয়াপুর, গনকবাড়ী, গজারিয়া পাড়া ও কোনাবাড়াসহ মোট ২৩টি গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘ বছর ধরে এই রীতি মেনে চলছেন। আজ সকাল ৮টায় গিরদাইন পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: চাঁদ দেখা গেছে, ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা

মসজিদের সভাপতি খন্দকার রিয়াজউদ্দীন মাস্টার জানান, তারা দীর্ঘ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। মুসল্লিরা যাতে সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে নামাজ আদায় করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় নয়াপুর, গনকবাড়ী, গজারিয়া পাড়া ও কোনাবাড়া এলাকার মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে পৃথক পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নয়াপুর গ্রামের একটি জামে মসজিদের ইমাম কামরুজ্জামান জানান, ধর্মীয় অনুশাসন ও নিজেদের বিশ্বাস থেকে তারা প্রায় ২০টি পরিবার প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

ভোলায় ১০ হাজার অনুসারীর ঈদ উদযাপন

এদিকে ভোলার সাতটি উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামে বিভিন্ন দরবারের প্রায় ১০ হাজার অনুসারী আজ বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমুদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় বসবাসরত সাতকানিয়া মির্জাখালী দরবার, সুরেশ্বর দরবার শরীফ, মাইজভান্ডার, আটরশি ও দুদুমিয়া দরবারের অনুসারীরা এই ঈদ পালন করছেন।

আজ সকাল সাড়ে ৭টায় ভোলার সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় বোরহানউদ্দিনের মনিরাম গ্রামের মজনু মিয়া বাড়ির দরজায় মসজিদ প্রাঙ্গণে। এখানে জামাতের ইমামতি করেন মাওলানা সিহাব উদ্দিন। মনিরাম সুরেশ্বর দরবারের প্রাক্তন খলিফার ছেলে রাসেদুল ইসলাম জানান, আমরা একদিন আগে রোজা ও ঈদ পালন করি বিষয়টি এমন নয়—ভৌগোলিক কারণে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আমরা একদিন আগেই এটি পালন করি।

এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় বোরহানউদ্দিনের মুলাইপত্তন গ্রামের পঞ্চায়েত বাড়ির মসজিদ প্রাঙ্গণে আরেকটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন মাওলানা রতন মিয়া। ওই গ্রামের সুরেশ্বর দরবারের প্রাক্তন খলিফার ছেলে মো. সুমন জানান, তাদের গ্রামে ১ হাজারের বেশি এবং পুরো জেলায় সব দরবার মিলিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার অনুসারী রয়েছেন। নামাজ শেষে তারা নিয়ম অনুযায়ী পশু কোরবানি করছেন।

পটুয়াখালীর ৩৫ গ্রামে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন

পটুয়াখালীতে প্রতিবছরের মতো এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হচ্ছে। জেলার ৪টি উপজেলার ৩৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দী ধরে চলে আসা এই ধর্মীয় রীতি মেনে আগাম কোরবানির ঈদ পালন করছেন।

সকাল ৮টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরিফে আগাম ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ জামাতে ওই অঞ্চলের সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। প্রধান এই ঈদের জামাতে ইমামতি করেন বদরপুর দরবার শরিফ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম আব্দুল গনি। নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও ইতিহাস থেকে জানা যায়, পটুয়াখালী সদর, গলাচিপা, বাউফল ও কলাপাড়া উপজেলার ৩৫টি গ্রামের এই বাসিন্দারা মূলত হানাফি মাজহাব ও কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী। ১৯২৮ সালে এই অঞ্চলের তৎকালীন এক পীর সাহেবের উদ্যোগে সৌদি আরবের চাঁদের হিসাবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্‌যাপনের এই প্রথার সূচনা হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ ৯৮ বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এই নিয়মটি পুরোপুরি মেনে চলছেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় তারা আগাম রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন করে আসছেন।

এ বিষয়ে বদরপুর দরবার শরিফ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম আব্দুল গনি জানান, ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পৃথিবীর যেকোনো স্থানে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে, তার ওপর ভিত্তি করে ঈদ উদ্‌যাপন করা বৈধ। তারা মূলত এই ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতিকে ধারণ করেই প্রতিবছর একদিন আগে ঈদ পালন করে আসছেন।

এদিকে আগাম ঈদুল আজহা উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল সংবাদমাধ্যমকে জানান, মুসল্লিরা যাতে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় এবং কোরবানি সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।