আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের উপর হামলায় পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের প্রতিবাদ

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ন, ১০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫৯ অপরাহ্ন, ১০ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় গুজবকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে সংগঠনটি দেশবাসীকে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৮ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যায় আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকির (২৬) নামে চুরি মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে একটি মাদক-সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে এবং গ্রেপ্তারের সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে ১৫৩ সিনিয়র অফিসারের ওরিয়েন্টেশন, নৈতিক ব্যাংকিংয়ের আহ্বান

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, থানা হাজতে থাকাকালে রিয়াজ ফকির নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, পরদিন ৯ জুলাই দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব তার এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে একদল ব্যক্তি আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: পলাতক ৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত, পর্যায়ক্রমে বরখাস্ত হবে আরও অনেকে

বিবৃতিতে বলা হয়, গুজবের ভিত্তিতে সংঘটিত এ ধরনের হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচারব্যবস্থা ও জননিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করে। সংগঠনটি এটিকে ‘মব সংস্কৃতি’র অংশ হিসেবে উল্লেখ করে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ বলে অভিহিত করেছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রচলিত আইন অনুযায়ী অসুস্থ আসামিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা পুলিশের আইনগত ও মানবিক দায়িত্ব। এ ধরনের গুজব ও উসকানির মাধ্যমে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে পুলিশের মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনকে শ্রদ্ধা করতে হবে এবং যেকোনো অভিযোগ বা অসন্তোষ আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রকাশ করতে হবে।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্ব, সংযম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও একইভাবে দায়িত্ব পালন করবে।