ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০, তিন ঘণ্টা বন্ধ ছিল সড়ক যোগাযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
রোববার (৭ জুন) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
আরও পড়ুন: সিলেটে বৃদ্ধকে ফাঁসানোর নেপথ্যে কী?
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, থলিয়ারা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির পুকুরপাড়ে শিরু মিয়ার একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দোকানটি উচ্ছেদ নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি সালিশে সিদ্ধান্ত হলেও এক পক্ষ সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। পাশাপাশি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ বিদ্যমান ছিল।
এসব বিরোধের জেরে রোববার সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির পর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। সংঘর্ষে অংশগ্রহণকারীদের অনেকের হাতে রামদা, বল্লম, টেঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। কয়েকজনের গায়ে লাইফ জ্যাকেট এবং মাথায় হেলমেট ও গামছা বাঁধা ছিল।
আরও পড়ুন: পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান
সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ গ্রামের অভ্যন্তর থেকে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূইয়া বলেন, চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সালিশের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধের জেরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।





