জামায়াত এমপি নজরুলের বিয়ের কাবিননামা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন কাজী

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৫২ পূর্বাহ্ন, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, ২২ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও এবং তার দাবি করা দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিয়ে ১৭ জুন সম্পন্ন হয়েছে বলে এমপি দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট কাজী জানিয়েছেন, বিয়ে কোথায় এবং কীভাবে হয়েছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। পরে ফোনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাবিননামা প্রস্তুত করেছেন।

কাবিননামার তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগরের ১২ নম্বর গাবুরা ইউনিয়নের কাজী মাওলানা বি এ এম বাকী বিল্লাহ বলেন, গত সোমবার রাতে ঢাকায় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে তাকে জানানো হয় এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নিবন্ধনের কাজ করেন। তিনি জানান, বিয়ের স্থান সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।

আরও পড়ুন: বিজিবির অভিযানে ৬০ লাখ টাকার গর্জন কাঠ ও কাভার্ড ভ্যান জব্দ

ভিডিও প্রকাশের পর গাজী নজরুল ইসলাম ব্যাখ্যায় বলেন, আলোচিত মরিয়ম খাতুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। পরে পৃথক ভিডিও বার্তায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন এবং মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহও দাবি করেন, পারিবারিকভাবে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে আটকে রেখে কয়েকজনকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে উদ্দেশ করে ‘জামায়াত হয়ে এই কাজ কীভাবে করলেন’ এবং ‘অন্যায় করেছেন কি না’—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি মাথা নেড়ে বলেন, ‘বিশ্বাস করেন, আজই প্রথম।’

আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় নব যোগদানকৃত ইউএনও'র সাথে উপজেলা বিএনপির মতবিনিময়

এক পর্যায়ে তরুণীর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর নাম ‘মাহি’ বলে উল্লেখ করেন। একই ভিডিওতে তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের ভিডিও মুছে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা ভিডিও ডিলিট করে দেন, সবকিছু বলছি।’

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় মরিয়ম খাতুনের জন্মতারিখ ২২ মে ২০০৮ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর সংগ্রহ করা একটি বায়োডাটায়, যেখানে গাজী নজরুল ইসলামের ২২ জুনের সুপারিশ রয়েছে, সেখানে মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ জুন বিয়ে হয়ে থাকলে ২২ জুনের বায়োডাটায় বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ কেন উল্লেখ করা হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে কাজী বাকী বিল্লাহ বলেন, তাকে ফোনে বিয়ের তথ্য জানানো হয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী ১৭ জুনকে বিয়ের তারিখ উল্লেখ করে নিবন্ধন করা হয়েছে। তার দাবি, কনের বাবা ফোনে সম্মতি দেন এবং পরদিন কনে ও অভিভাবক এসে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন।

কনের নাম, জন্মতারিখ ও বয়সের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ীই সবকিছু লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং কনের বয়স ১৮ বছর ৩ মাস উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কথোপকথনের এক পর্যায়ে কাজীর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি দেখা যায়। শেষদিকে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা ভাই, আমি যাতে বিপদে পড়ে না যাই, আমাদের বিপদে ফেলেছেন। ঠিক আছে, ঠিক আছে’—এ কথা বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।