হরিরামপুরে গ্রামীণ শক্তির পরিচালকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন

Shahrier Islam Pallab
মোহাম্মদ আলী, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহ্ন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে গ্রামীণ শক্তি এনজিওর পরিচালক মো. মাসুদ রানা ইন্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পাওনা টাকা ফেরত এবং মাসুদ রানা ইন্তার নামে থাকা সম্পত্তি হস্তান্তর ও বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে হরিরামপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

আরও পড়ুন: রাতে বাবাকে লাইভ লোকেশন, সকালে মিলল কিশোরীর মরদেহ

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রামীণ শক্তি এনজিওর পরিচালক মো. মাসুদ রানা ইন্তার কাছে ৩২ জন ভুক্তভোগীর প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এসব টাকা ফেরত না দিয়ে সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

ভুক্তভোগীরা বলেন, মাসুদ রানা ইন্তার নামে রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী লিলি বেগমের মাধ্যমে সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগও বন্ধ করে দ্রুত ভুক্তভোগীদের পাওনা টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

আরও পড়ুন: রংপুরে ৯টি চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

ভুক্তভোগীদের দাবি, মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও হরিরামপুরের আইলকুন্ডি মৌজায় মাসুদ রানা ইন্তার নামে রেকর্ডভুক্ত প্রায় ৯০১ দশমিক ৫ শতাংশ সম্পত্তি তার স্ত্রী লিলি বেগমের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি ২০২৬ সালের আগস্টে ওই সম্পত্তি নিয়ে রেজিস্ট্রি বায়না সম্পন্ন হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা আরও দাবি করেন, মাসুদ রানা ইন্তার নামে রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি বিক্রি ও হস্তান্তর বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পাওনা সংক্রান্ত ১৭৬১ নম্বর দলিল ও বায়না দলিল যাচাই করতে হবে। আদালতের নির্দেশে কোনো চেক জব্দ বা সম্পত্তি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা থাকলে সেটিও কার্যকর করার দাবি জানান তারা।

পেছনের ঘটনা

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বালিরটেক ফেরিঘাট এলাকায় ‘গ্রামীণ সংস্থা’ ও ‘গ্রামীণ শক্তি’ নামে দুটি এনজিও ঋণ বিতরণ এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করে।

পরে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট এনজিওটির চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানা ইন্তা (৪২) ও তার স্ত্রী লিলি বেগমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসুদ রানা ইন্তার বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম শানবান্দা এলাকায়। বর্তমানে তিনি ও তার স্ত্রী আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাওনা টাকা আদায় এবং সম্পত্তি হস্তান্তর বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।