আশুলিয়ায় বিস্ফোরণ: আট মৃত্যুতে পুলিশের মামলা
সাভারের আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় আট প্রাণহানির দুই দিন পর মামলা করেছে পুলিশ।
অপরাধজনক নরহত্যা হিসেবে করা মামলায় কারখানাটির দায়িত্বশীল ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে। তবে বিস্ফোরণের ধাক্কা কাটেনি এখনও। ঘটনার পর মঙ্গলবারও বন্ধ ছিল একই চত্বরে থাকা চারটি কারখানা। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে শুরু হয়েছে তদন্ত।
আরও পড়ুন: ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারি: ১০ ডিলারসহ ১৫ জন কারাগারে
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
পুলিশের করা মামলায় প্রীতি গ্রুপের দায়িত্বশীল ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং দায়িত্বে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: গফরগাঁওয়ে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন
এদিকে বিস্ফোরণের পর মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রাখা হয় প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড, প্রীতি কম্পোজিট গার্মেন্টস লিমিটেড, অক্সফোর্ড কালারস লিমিটেড ও এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড। সকালে কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে বন্ধের নোটিশ টাঙানো দেখা যায়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ছিটকে পড়ে আশপাশে। এতে কারখানার ভবন, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিস্ফোরণে ছিটকে আসা একটি সিলিন্ডারের আঘাতে কারখানার পাশের একটি দর্জির দোকানের সামনে থাকা জয়নব বেগম (৫৫) নিহত হন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর কাভার্ড ভ্যানের ভেতর, নিচে ও পাশ থেকে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত দুজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় আটজনে। এ ঘটনায় অন্তত ২৬ জন আহত ও দগ্ধ হন।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় মঙ্গলবারও চারটি কারখানা বন্ধ রয়েছে। কারখানাগুলোর ভবনের দরজা-জানালার কাচ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে। নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মঙ্গলবার সকালে কারখানার সামনে মানববন্ধন ও শোক র্যালি করেছে দুটি শ্রমিক সংগঠন। আগামীকাল বুধবারও কারখানার সামনে শ্রমিক সংগঠনের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানা গেছে।
এখন পুলিশের মামলার তদন্ত এবং ফায়ার সার্ভিসের তদন্তে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও দায়ের বিষয়টি কতটা স্পষ্ট হয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।





