মাল্টা চাষে সফল শ্রীমঙ্গলের আতর আলী
মাল্টা চাষে সফলতা পেয়েছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ডলুছড়ার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আতর আলী। বিভিন্ন জাতের ফল চাষ করে এরই মধ্যে তিনি সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন। কৃষিতে অবদানের জন্য পেয়েছেন কৃষি পুরস্কারও।
২০২২ সালে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ২২০টি মাল্টার চারা পান আতর আলী। বাড়ির আশপাশের প্রায় ৯০০ শতক সমতল, উঁচু-নিচু ও পাহাড়ি টিলার জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন বৈচিত্র্যময় ফলের বাগান। সেখানে রয়েছে আনারস, ফিলিপাইনের আনারস, কফি, পেঁপে, সুপারি, লটকন, আতাফল, লেবু, কলা, জাম্বুরা ও নাগামরিচসহ বিভিন্ন ফল ও ফসলের শত শত গাছ।
আরও পড়ুন: সোনাগাজীতে সোশ্যাল এইডের উদ্যোগে অভিবাসন সচেতনতা কর্মশালা
আতর আলী জানান, বিভিন্ন ফল ও কৃষিপণ্য বিক্রি করে বছরে তার আয় হয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে মাল্টা চাষ থেকেও তিনি প্রতিবছর আয় করছেন। ২০২২ সালে মাল্টা বিক্রি করে প্রথমবারের মতো ২০ হাজার টাকা আয় করেন। ২০২৫ সালে ২২০টি মাল্টা গাছ থেকে আয় হয় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে মাল্টা বিক্রি করে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় হয়েছে।
তিনি বলেন, শুরুতে কৃষি অফিসের দেওয়া চারা দিয়ে মাল্টা চাষ শুরু করলেও পরবর্তীতে নিজের উদ্যোগে আরও গাছের পরিচর্যা ও বাগান সম্প্রসারণ করেছেন। নিয়মিত পরিচর্যা, সার প্রয়োগ, সেচ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গাছগুলোকে উৎপাদনক্ষম করে তুলেছেন।
আরও পড়ুন: সংসদে ডা. বাচ্চুর উত্থাপিত ভূমি জটিলতায় মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা
ডলুছড়ার পাহাড়ি ও সমতল জমিকে কাজে লাগিয়ে একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফল চাষ করছেন আতর আলী। ফলে একটি ফসলের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সারা বছরই কোনো না কোনো ফল ও কৃষিপণ্য থেকে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আতর আলীর বৈচিত্র্যময় ফলের বাগান এলাকায় আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তার বাগান দেখতে এসে অনেক কৃষক বিভিন্ন ফল চাষের বিষয়ে ধারণা নি”েছন এবং নিজেদের জমিতে নতুন জাতের ফল চাষে উৎসাহিত হয়েছেন।
আতর আলী বলেন, শ্রীমঙ্গলের মাটি ও আবহাওয়া বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। পরিকল্পিতভাবে জমি ব্যবহার, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ এবং নিয়মিত পরিচর্যা করা গেলে ফল চাষ থেকে ভালো আয় করা সম্ভব। তিনি কৃষকদের প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি লাভজনক ফল চাষে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও নিজের শ্রম, মেধা এবং পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে আতর আলী যে ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন, তা এখন তার পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস। একই সঙ্গে তার সফলতা আশপাশের কৃষকদেরও নতুনভাবে ফল চাষে আগ্রহী করে তুলছে।





