নিরাপত্তা, সিসি ক্যামেরা সচল ও সর্বক্ষণিক নজরদারির আশ্বাস পুলিশের

দুর্গাপূজা উপলক্ষে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মতবিনিময় সভা

Shahrier Islam Pallab
সাইফুল ইসলাম বাবু, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ন, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৪ পূর্বাহ্ন, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় জৈন্তাপুর মডেল থানা হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা। সভা পরিচালনা করেন থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আল আমিন মীর। সভায় জানানো হয়, চলতি বছর জৈন্তাপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ২০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

সভা শুরুর আগে বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা তাদের পূজার আয়োজন, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয় তুলে ধরেন। কয়েকটি পূজামণ্ডপের অচল সিসি ক্যামেরা দ্রুত সচল করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপনের অনুরোধ জানান তারা। একই সঙ্গে পূজার পুরো সময় পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানানো হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সব ধর্মের মানুষ সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সঙ্গে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় জৈন্তাপুরে এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে কালিগঙ্গায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ: লাখো জনতার ঢল

তিনি বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল থাকবে। পাশাপাশি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সব পূজামণ্ডপে প্রতিদিন পুলিশের বিশেষ টিম নিয়মিত টহল দেবে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি রেজিস্টার রাখা হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পরিদর্শনের সময় সেখানে স্বাক্ষর করবেন।

পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের সমস্যা বা সন্দেহজনক ঘটনা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে ওসি বলেন, মণ্ডপগুলোর জন্য হটলাইন নম্বর দেওয়া হবে। কোনো কারণে হটলাইনে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করতে হবে।

মহাসড়কের পাশে থাকা পূজামণ্ডপগুলোর আশপাশে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি। সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোতে স্বেচ্ছাসেবকদের বাড়তি নজরদারি রাখার এবং প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া পূজামণ্ডপের আশপাশে অস্থায়ী দোকানপাটের কারণে যাতে দর্শনার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পরিমিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আলোকসজ্জার জন্য পৃথক জেনারেটর ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়।

প্রতিমা স্থাপনের আগে সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পুলিশি নিরাপত্তায় প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান ওসি। বিসর্জন পর্যন্ত পুলিশ মাঠে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে তাদের তালিকা থানায় জমা দেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়। আজান ও নামাজের সময় সীমিত সময়ের জন্য মাইক, বাদ্যযন্ত্র ও ঢাক-ঢোল বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়। অচল সিসি ক্যামেরাগুলো দ্রুত সচল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়েও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সার্বক্ষণিক তদারকি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের নিজ নিজ পূজামণ্ডপে আমন্ত্রণ জানান।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট জৈন্তাপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক প্রদীপ কুমার শর্মা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জৈন্তাপুর উপজেলা সভাপতি শ্রী যাদব চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নিবারণ চন্দ্র দাশ, জৈন্তাপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি শঙ্কর দাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রতন দে, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সিনিয়র সভাপতি বাদল মণি দত্তসহ দুলাল চন্দ্র দেব, প্রণত কান্ত দেব, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জয়মতী রানী এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।

সভা শেষে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়। পূজা উদযাপন পরিষদ ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ পুলিশের এমন উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।