আশুলিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার

Sadek Ali
আশুলিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ন, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৩:২৮ অপরাহ্ন, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার আশুলিয়ায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি স্থান থেকে তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামীকে আটক করা হয়েছে। অন্য দুজনের একজন দুবাইপ্রবাসীর স্ত্রী, যাঁর মরদেহ পাওয়া গেছে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে। অপরজন পোশাক কারখানার নারী শ্রমিক, যাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ভাড়া বাসা থেকে।

একই এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে তিন নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনটি ঘটনাই হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: টানা তিনবার বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় বেরোবির অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আশুলিয়া ইউনিয়নের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার হাজী খালেকের বাড়িতে আঁখি আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী জাহিদ হাসানকে (২৭) আটক করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ

পারিবারিক বিরোধ ও পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে জাহিদ তাঁর স্ত্রী আঁখিকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। পরে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় জাহিদকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে।

আঁখি শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার ঘাগড়া কবিরাজপাড়া গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে। জাহিদ একই জেলার নালিতাবাড়ী থানার সিটপাড়া গ্রামের তাইজুদ্দিনের ছেলে।

এর আগে বুধবার রাতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসূতি মরিচকাটা এলাকায় নিজেদের নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে রোকসানা বেগম (৪০) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি দুবাইপ্রবাসী মকবুল হোসেনের স্ত্রী।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে রোকসানা তাঁর পরিবারের সঙ্গে নির্মাণাধীন ভবনটির তৃতীয় তলায় বসবাস শুরু করেন। বুধবার সন্ধ্যার দিকে পানির ট্যাংক দেখতে ভবনের ছাদে যাওয়ার পর তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে স্বজনেরা ছাদে গিয়ে তাঁকে বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। আশুলিয়া থানার এসআই নূর আমিন জানান, রোকসানার গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি, আর্থিক লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।

রোকসানার স্বামী মকবুল হোসেনের বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দক্ষিণ পাকুল্লা এলাকায়।

এদিকে বুধবার বিকেলে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের পাগলাবাজারসংলগ্ন এলাকায় দেলোয়ার হোসেন দেওয়ানের ভাড়া বাড়ি থেকে তানিয়া খাতুন নামের এক নারী পোশাকশ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তানিয়া পলমল গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তিনি ওই বাড়িতে একাই ভাড়া থাকতেন। বিকেলে তাঁর কক্ষে বিছানার ওপর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে খবর দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার করে। তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং শ্বাসরোধের আলামত পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তানিয়া সাতক্ষীরা সদর থানার বাগডাঙ্গা এলাকার মিজানুর রহমানের মেয়ে। তিনি স্বামী পরিত্যক্তা ছিলেন।

আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, পৃথক তিনটি ঘটনায় উদ্ধার হওয়া মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। গৃহবধূ আঁখি হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামীকে আটক করা হয়েছে। অপর দুটি ঘটনায় হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।