আসামি ছাড়াতে থানায় ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে লোকজন নিয়ে অবস্থান ও হট্টগোলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, ৫০ থেকে ৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে আসামিদের ছেড়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। তবে জহিরুল ইসলামের দাবি, দলের নিরপরাধ কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তিনি স্থির থাকতে পারেননি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রুহিয়া উপজেলার কুজিশহর এলাকার বাসিন্দা নাজমিন আক্তারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে রুহিয়া থানায় মামলা করেন তিনি। মামলায় কুজিশহর (ঘুরণগাছ) এলাকার ১১ জনকে আসামি করা হয়।
আরও পড়ুন: দেশের ৬৪ জেলায় তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
মামলার পর রাত দুইটার দিকে পুলিশ বেলাল হোসেন (৩৫) ও মো. বদিউজ্জামানকে (৪০) গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার সকালে তাঁদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন থানায় জড়ো হন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাঁরা থানার ফটকে অবস্থান নেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামসহ দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। থানার মূল ফটক বন্ধ থাকায় তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। বাইরে থেকে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি চিৎকার-চেঁচামেচি করেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: কালাই অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বাগত ও শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলাদুন নবী ফটকে আসেন। ওসির ভাষ্য, এ সময় জহিরুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছেড়ে দিতে বলেন। জবাবে তিনি জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই; তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পরে রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার থানায় যান। তিনি ওসির সঙ্গে কথা বলেন। এরপর পুলিশের সঙ্গে থেকে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে নিয়ে আদালতের উদ্দেশে রওনা হন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বড় ভাই রশিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে নাজমিন আক্তারের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলছিল। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিপনও জানতেন। তিনি বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছিলেন। রশিদুলের দাবি, মামলা হওয়ার আগেই পুলিশ টাকার বিনিময়ে তাঁর দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। এ খবর জানার পর সকালে এলাকাবাসী থানায় গিয়ে প্রতিবাদ করেন।
তবে মামলা হওয়ার আগে গ্রেপ্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুহিয়া থানার ওসি মিলাদুন নবী। তিনি বলেন, একটি মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে ৫০ থেকে ৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম থানায় এসে ‘মব’ সৃষ্টি করেন। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে কথা বলেন। পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং পুলিশের সঙ্গে থেকে আসামিদের আদালতে নিয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন উপনির্বাচন চলছে। দুপুরে দলের প্রার্থী এলাকায় এসেছিলেন। আর সেই রাতেই দলের কর্মীদের নামে মামলা হলো। সেই মামলায় দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলো। এটা আমি সহ্য করতে পারিনি।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার বলেন, থানায় লোকজনের অবস্থানের খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, লোকজন থানার ফটকে অবস্থান করছেন। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিয়ে থানার বাইরে যেতে আশঙ্কা করছিল। পরে তিনি লোকজনকে বুঝিয়ে পুলিশের সঙ্গে থেকে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে আদালতে নিয়ে যান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের হাজির করা হলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান ২৬ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেন। একই সঙ্গে ওই দিন পর্যন্ত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।





