আইন উপেক্ষা করে টেন্ডার আহ্বান

মন্ত্রীর নির্দেশনাও মানছে না পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ন, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৬:১৯ অপরাহ্ন, ১১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আইন উপেক্ষা করে টেন্ডার আহ্বান করেছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। বিষয়টি জানার পর তা সংশোধন করে দেয়ায় জন্য মন্ত্রী নির্দেশ দিলেও তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের দেয়া শর্ত বহাল রেখেছে অধিদপ্তরটি। 

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সমর্থিত একটি সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতেই আইন অমান্য ও মন্ত্রীর নির্দেশ মানছে না অধিদপ্তরটি।

আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আইসিইউতে ৪ জন

সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন এবং মাতৃত্ব পরবর্তী প্রায় ২৫ ধরনের জরুরী ওষুধ (ডিডিএস কিট) ক্রয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। প্রতিটি পঁয়ত্রিশ কোটি টাকা সমমূল্যের পাঁচটি প্যাকেজে এসব ওষুধ ক্রয়ের টেন্ডারে অংশ নিতে হলে শর্ত জুড়ে দেয়া হয়, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অন্তত একুশ কোটি বারো লক্ষ টাকার ওয়ার্ক এক্সপ্রিয়েন্স (কাজের অভিজ্ঞতা) থাকতে হবে। যা মুল টাকার ৬০ পার্সেন্ট। 

এ কারণে আওয়ামী লীগ আমলে বঞ্চিত ঠিকাদাররা এ কাজে অংশ নিতে পারবে না। এককভাবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ঠিকাদাররা সুযোগ পাচ্ছে। কেননা গত ১৭ বছর তারাই একচেটিয়ে কাজ করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে।  তখন বিএনপিপন্থী বা অন্য কোন সাধারণ ঠিকাদার অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি।

আরও পড়ুন: মারুবেনির সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা

অথচ সরকার আইন করে এসব শর্ত শিথিল করেছে। গত ২১শে সেপ্টেম্বর,২০২৬ প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যেখানে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এর ২৪ নং আইনের ২৫ নং ধারা সংশোধন করে বলা হয় এমন কোন যোগ্যতার শর্ত বা বৃহৎ চুক্তি সম্পাদনের শর্ত আরোপ করা যাবে না যার দ্বারা উপযুক্ত উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্থ হয়। বিষয়টি গত ১ অক্টোবর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের গোচরে আনা হলে তিনি তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে নির্দেশ দেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. জিন্নাত রেহানাকে শর্ত শিথিল করে ৫০% করে দেয়ার (সংশোধন নোটিশ) নির্দেশনা জারি করতে। কিন্তু আজ পর্যন্ত মন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষিত রয়েছে। 

ডিডিএস কিট হল মাতৃত্বকালীন এবং মাতৃত্ব পরবর্তী প্রায় ২৫ ধরনের জরুরী ওষুধ সম্বলিত একটি কিট যা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর তাদের অধীনে থাকা সারা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করে থাকে।

উক্ত প্রজেক্ট এবং এই ডিডিএস কিটের প্যাকেজটি ফ্যাসিস্টদের আমল থেকেই দীর্ঘদিন যাবত গুটিকয়েক কোম্পানীর সিন্ডিকেটের হাতে বন্দী ছিল ফ্যাসিস্টদের সরাসরি মদদে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো ফ্যাসিস্টদের পতন হলেও সেই একই সিন্ডিকেট এখনো পুরোদমে ঠিকাদারী কাজ করে যাচ্ছে। এর মূলে রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে এখনো বহাল তবিয়তে থাকা কিছু ফ্যাসিস্টদের দোসররূপী কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেটের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছেন এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (ড্রাগস এন্ড স্টোর্স) আ.ফ.ম. আরাফাত হোসেন এবং স্বয়ং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড.জিন্নাত রেহানা। সেই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে চলমান ডিডিএস কিটস টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তারা সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশে এমনভাব যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করেছেন যেন ফ্যাসিস্টদের সিন্ডিকেটের গুটিকয়েক সদস্য ব্যতীত অন্য কোন ঠিকাদার টেন্ডারে অংশগ্রহণই করতে না পারেন। ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেটের স্বার্থ উদ্ধারে তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

এর ফলে অনিয়ম রোধে সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। এটি সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্রের অংশ বলে প্রতীয়মান হয় । এমনটা মনে করেন শর্তের বেড়াজালে আটকে পড়া নতুন কিংবা কম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ঠিকাদাররা।