কাফনের কাপড় পরে আন্দোলনের পর নিয়োগপত্র পেলেন ২০ শিক্ষক
কাফনের কাপড় পরে আন্দোলনের পর অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পেয়েছেন ময়মনসিংহের ২০ প্রার্থী। পুলিশ ভেরিফিকেশন ও কাগজপত্রের জটিলতায় এত দিন তাদের নিয়োগ আটকে ছিল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, নথিপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকা প্রার্থীদের কাগজপত্র পুনরায় যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়োগপত্র ডাকযোগে প্রার্থীদের নিজ নিজ ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, সমাজকর্মীর ভিডিও ভাইরাল
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ময়মনসিংহ জেলা থেকে মোট ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৮ জন নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে প্রথম ধাপে ২১৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও সনদসংক্রান্ত জটিলতায় ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছিল।
নিয়োগ আটকে থাকায় অনিশ্চয়তা ও হতাশায় পড়েন এসব প্রার্থী। নিয়োগের দাবিতে গত বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে কাফনের কাপড় জড়িয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এরপর প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ে। ওই রাতেই যাচাই-বাছাই শেষে ২০ জনের নাম যুক্ত করে তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে তালিকায় এখনো দুজনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় বেশি দামে এলপিজি বিক্রি, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
নিয়োগের খবর পেয়ে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেন প্রার্থীরা। নিয়োগ পাওয়া মোশাররফ হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে তাদের মনে হচ্ছিল জীবনের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে জীবন ফিরে পাওয়ার মতো অনুভূতি হচ্ছে। এ সময় তিনি সরকার ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আরেক নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থী হাসি আক্তার বলেন, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে তারা অবশেষে নিয়োগ পেয়েছেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নথিপত্রে ছোটখাটো ত্রুটি থাকা প্রার্থীদের তথ্য পুনরায় যাচাই করে ২০ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তারা দ্রুত নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেবেন। তবে বাকি দুজনের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়া গেলে তাদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





