অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর ১৯তম শাহাদাতবার্ষিকীতে স্মরণসভা, চিকিৎসা শিক্ষায় অবদানের কথা স্মরণ

Sanchoy Biswas
আয়নাল ইসলাম
প্রকাশিত: ৮:৪৬ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৮ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সাবেক উপাচার্য প্রয়াত অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর ১৯তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার শহীদ ডা. মিলন হলে অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলন: কঠোর অবস্থানে পুলিশ, মাঠে ডিআইজি

এতে দেশের চিকিৎসা, শিক্ষা ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, চিকিৎসক, শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. এস এম ইউনুস আলী।

আরও পড়ুন: খুলনায় দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার, ১২ দিনে সাত খুন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি।

বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু এমপি, সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বিএমএ ও ড্যাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক, বিএনপির পরিবার কল্যাণবিষয়ক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির লাবু, বিএমইউর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু, চিফ এস্টেট অফিসার ডা. মো. এহতেশামুল হক তুহিন এবং ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম সেলিম।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিএমইউর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ডিন অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সালাম, ডা. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, ডা. সাইফ উদ্দিন নিসার আহমেদ, অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল আজম রঞ্জু এবং পরিচালক খন্দকার শফিকুল হাসান রতনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রয়াত অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, অধ্যাপক এম এ হাদীর আদর্শ, কর্মনিষ্ঠা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানা প্রয়াত অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অগ্রযাত্রায় অধ্যাপক এম এ হাদীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের কাছে তুলে ধরতে হবে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ছিলেন বাংলাদেশের স্নাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম রূপকার। চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে তাঁর অবদান দেশের চিকিৎসাঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দায়িত্ব পালনে তাঁর নিষ্ঠা, সময়ানুবর্তিতা ও পেশাগত একাগ্রতা ছিল অসাধারণ।

বক্তারা আরও বলেন, কর্মজীবনে তিনি ভোর ৫টায় অপারেশন থিয়েটারে উপস্থিত হওয়া এবং সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে অফিসের দায়িত্ব পালনে যুক্ত হওয়ার মতো কঠোর কর্মনিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাঁর এই কর্তব্যপরায়ণতা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে।

বক্তারা প্রয়াত এই চিকিৎসা শিক্ষাবিদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, মানুষ তাঁর কর্মের মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকেন। অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী তাঁর মেধা, সততা, নিষ্ঠা ও মানবসেবার মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা অঙ্গনে যে অবদান রেখে গেছেন, তা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিশেষ করে বৃহত্তর গফরগাঁওয়ের কৃতী সন্তান হিসেবে অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী এলাকার মানুষের কাছে ছিলেন গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর মৃত্যুতে দেশের চিকিৎসাঙ্গনের পাশাপাশি অবিভক্ত গফরগাঁওয়ের মানুষও একজন গুণী ও কৃতী সন্তানকে হারিয়েছে।

স্মরণসভায় বক্তারা তাঁর কর্মময় জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।