ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উন্নয়নে বারবার বাধা কেন? বরিশল উপজেলা নিয়ে এমপির ভূমিকা তদন্তের দাবি

Sanchoy Biswas
সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:০১ অপরাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘বরিশল’ উপজেলা গঠন নিয়ে জেলায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও, মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘবদ্ধ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রশাসনের ওপর চাপ ও মব সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল প্রস্তাবিত উপজেলা গঠনের বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। বিরোধিতা তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সেই বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি, জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের ওপর চাপ, হুমকি বা বল প্রয়োগ করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন: পায়রাকুঞ্জ-মির্জাগঞ্জ নৌপথে চালু হলো BIWTA'র ট্রলার সার্ভিস, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের আশা

শুধু উপজেলা গঠন নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিকল্পিত উপশহর ও নগরায়ণ নিয়েও বিরোধিতা দেখা গেছে। প্রশ্ন উঠেছে, জেলার উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলো নিয়ে বারবার এমন বিরোধ ও প্রতিবন্ধকতা কেন?

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২ নভেম্বর সকাল থেকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সদর ও বিজয়নগর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তারা অভিযোগ করেন, জনগণের মতামত না নিয়ে গোপনে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করা হয় এবং প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা, ৮ জন গ্রেপ্তার

এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী সংঘবদ্ধ মব সৃষ্টি করে প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছে। জেলা প্রশাসককে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রামরাইল ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণকেন্দ্র। সদর উপজেলাকে ভেঙে নতুন উপজেলা গঠনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ ও ব্যক্তিগত উচ্চাভিলাষ থেকে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। তবে তাদের এই বিক্ষোভ প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রেক্ষাপটে ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—২ নভেম্বরের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। জেলা প্রশাসকের ওপর কোনো চাপ বা বল প্রয়োগ হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে হবে। সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করতে হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন বরিশল উপজেলা গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই রাজনৈতিক চাপমুক্তভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ উন্নয়ন চায়, প্রশাসনের স্বাধীনতা চায় এবং আইনের শাসন চায়। একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব উন্নয়নে সহযোগিতা করা, প্রশাসনের কাজে বাধা সৃষ্টি করা নয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উন্নয়ন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছার কাছে জিম্মি হতে পারে না—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।