কাজীর মৃত্যুর ৭৭ দিনেও জব্দ হয়নি নিকাহ রেজিস্ট্রার বই, অবৈধভাবে চলছে বিয়ের কার্যক্রম

Shahrier Islam Pallab
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:২৭ অপরাহ্ন, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৮ অপরাহ্ন, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের কাজী তাফসির আহম্মদের মৃত্যুর ৭৭ দিন পার হলেও জব্দ করা হয়নি তাঁর ব্যবহৃত নিকাহ রেজিস্ট্রার বই। অভিযোগ উঠেছে, ওই বই ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তাঁর তিন ছেলে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাঁদের একজন।

জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট কুশাখালী ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী তাফসির আহম্মদ মারা যান। এরপর ইউনিয়নের পদটি শূন্য ঘোষণা করে পাশের মান্দারী ইউনিয়নের কাজী রেজাউল করিমকে ৯০ দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রয়াত কাজীর ব্যবহৃত নিকাহ রেজিস্ট্রার বই জব্দ করে কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ৭৭ দিন পেরিয়ে গেলেও বইগুলো জমা পড়েনি।

আরও পড়ুন: ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুটসহ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার সোহান

অভিযুক্ত তিন ছেলে হলেন কাজী দেলোয়ার হোসেন, কাজী মাকসুদুর রহমান ও কাজী নুর হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা কাজী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত না হলেও বাবার ব্যবহৃত রেজিস্ট্রার বই দিয়ে নিকাহ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাজী পদের তিন আবেদনকারী জানান, কুশাখালী ইউনিয়নে কাজী নিয়োগের জন্য অন্তত ১০ জন আবেদন করেছেন। এরপর থেকে প্রয়াত কাজীর ছেলে দেলোয়ার ও মাকসুদুর রহমান তাঁদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁদের অভিযোগ, আবেদনকারীদের ভাড়াটে লোক দিয়ে মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

আরও পড়ুন: হরিরামপুরে লাউতা জামি'আ ইবনে আব্বাস (রহ.) মাদ্রাসার উদ্যোগে ১০ম বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত

কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, শুনেছেন দেলোয়াররা তাঁদের বাবার নিকাহ রেজিস্ট্রার বই ব্যবহার করে বিয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেলোয়ার ২০১৮ সালে মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরীর ওপর হামলা চালিয়েছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি কাজীর লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। লাইসেন্স পাওয়ার আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী মানবিক কারণে তাঁকে সহকারী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। বাবার রেজিস্ট্রার বইগুলো কাজী রেজাউল করিমের কাছে জমা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী রেজাউল করিম বলেন, কাজী সমিতি থেকে দেলোয়ারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি নিজে এ দায়িত্ব চাননি। প্রয়াত কাজী তাফসিরের রেজিস্ট্রার বইগুলো তাঁকে দেওয়া হয়নি। তবে বইয়ের সংখ্যা সম্পর্কে তিনি হিসাব নিয়েছেন।

সদর উপজেলা মুসলিম কাজী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী এমরান হোসেন বলেন, তাঁরা কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেননি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। কাজীর ছেলে হলেই কেউ কাজী হওয়ার সুযোগ নেই। তাঁরা মান্দারী ইউনিয়নের কাজীর সহকারী হিসেবে কাজ করেন। প্রয়োজনে ওই কাজী তাঁর সহকারী পরিবর্তন করতে পারেন।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা রেজিস্ট্রার নীরোদ বরণ বিশ্বাস বলেন, কুশাখালী ইউনিয়নের কাজী মারা যাওয়ায় মান্দারী ইউনিয়নের কাজীকে ৯০ দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে প্রয়াত কাজীর নিকাহ রেজিস্ট্রার বই জব্দ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মৃত ব্যক্তির লাইসেন্স ব্যবহার করে নিকাহ নিবন্ধনের কোনো সুযোগ নেই। একইভাবে কাজীর ছেলে হলেই কাজী হওয়ার কোনো বিধান নেই।