বিদ্যুতের আলোয় উন্নয়নের গল্প, আর অন্ধকারে সাধারণ মানুষের বাস্তবতা

Sadek Ali
আহমেদ শাহেদ
প্রকাশিত: ১২:২৭ অপরাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২:২৮ অপরাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিদ্যুৎ চলে গেলে আমরা প্রথমে ঘড়ির দিকে তাকাই। পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট, আধা ঘণ্টা, এক ঘণ্টা। তারপর অপেক্ষা করতে করতে বিরক্তি বাড়ে। মোবাইলের চার্জ কমতে থাকে, ফ্রিজের ভেতরের খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, শিশুর ঘুম ভেঙে যায়, বয়স্ক মানুষ হাঁসফাঁস করেন, শিক্ষার্থীর পড়াশোনা থেমে যায়। কোনো কোনো দোকানে বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায়, কারখানার মেশিন থেমে যায়, হাসপাতালে ব্যাকআপ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ে। আর গ্রামের মানুষ? তাদের অনেকের কাছে বিদ্যুৎ থাকা-না থাকা যেন এখনো ভাগ্যের ব্যাপার।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কোনো বিলাসিতা নয়। এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে যে মাত্রায় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, তাতে একটি মৌলিক প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে: আমরা কি সত্যিই একটি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে পেরেছি, নাকি শুধু উৎপাদন সক্ষমতার পরিসংখ্যান বাড়িয়েই আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি?

আরও পড়ুন: ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক: বন্ধুত্ব চাই, আধিপত্য নয়

২৯ আগস্ট পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্যই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝার জন্য যথেষ্ট। ওই দিন বিকেল ৩টায় জাতীয় গ্রিডে চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩২২ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১২ হাজার ৭১০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৬১২ মেগাওয়াট। বিকেল ৫টায় ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫১৭ মেগাওয়াট। সন্ধ্যা ৬টায়ও ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ২৭ মেগাওয়াট। রাত ৮টায় চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৭৪২ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ তখনও প্রায় ২ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা কত, মোট উৎপাদন সক্ষমতা কত, কিংবা কাগজে-কলমে জাতীয় গ্রিডে কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রয়োজনের সময় আমরা কতটা বিদ্যুৎ দিতে পারছি। একটি দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা তখনই শক্তিশালী বলা যায়, যখন চাহিদার সময় নির্ভরযোগ্যভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ভিশন ও নেতৃত্বের সামনে বড় সংস্কারের পরীক্ষা

আমাদের সংকটটা এখানেই।

সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে গ্যাসের ঘাটতি, কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহ সমস্যা, বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো সামনে এসেছে। ২৮ আগস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব কারণে ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

অর্থাৎ সমস্যা একটি জায়গায় নয়। উৎপাদনে সমস্যা আছে, জ্বালানিতে সমস্যা আছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা আছে, কোথাও কারিগরি ত্রুটি, কোথাও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কেন্দ্র বন্ধ। সবকিছু মিলে জাতীয় গ্রিডে তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের চাপ।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এসব কি হঠাৎ তৈরি হয়েছে?

নিশ্চয়ই নয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। গ্যাস না থাকলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে থাকবে, কয়লা না থাকলে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র উৎপাদন করতে পারবে না। আবার তরল জ্বালানি দিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে গেলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। ফলে বিদ্যুৎ খাতে শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেই হবে না, একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

সাম্প্রতিক সংকটে এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

দেশে একসময় বলা হয়েছে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে, বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই। বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে। নতুন নতুন কেন্দ্র হয়েছে। কিন্তু আজ যদি কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে দেশের মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে থাকে, তাহলে সেই বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্র বানানো আর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা এক জিনিস নয়।

কাগজে একটি কেন্দ্রের সক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে। কিন্তু জ্বালানি না থাকলে সেটি শূন্য মেগাওয়াটও উৎপাদন করতে পারে। যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। রক্ষণাবেক্ষণের যথাযথ পরিকল্পনা না থাকলে প্রয়োজনের সময় কেন্দ্র অচল হয়ে যেতে পারে। আবার উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঠিকভাবে সঞ্চালন ও বিতরণ করা না গেলে গ্রাহকের ঘরে সেই বিদ্যুৎ পৌঁছাবে না।

তাহলে প্রশ্নটা হওয়া উচিত, আমরা কি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের সংখ্যা দেখেছি, নাকি পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করেছি?

দুঃখজনকভাবে, সাম্প্রতিক বাস্তবতা দ্বিতীয় প্রশ্নটির উত্তর নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো জ্বালানি ব্যবস্থাপনা। গ্যাস সংকটের কথা নতুন নয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি শিল্প, সার কারখানা, আবাসিক ও পরিবহন খাতেও গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। ফলে সীমিত জ্বালানি নিয়ে বিভিন্ন খাতের মধ্যে চাপ তৈরি হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

গত ১০ আগস্টের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি একপর্যায়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির পাশাপাশি কয়লা খালাসের সমস্যাও উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছিল। এমনকি ঘাটতি মোকাবিলায় বেশি দামের তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছিল।

এখানেই অর্থনীতির আরেকটি বিপদ লুকিয়ে আছে।

একদিকে মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, অন্যদিকে ঘাটতি পূরণ করতে ব্যয়বহুল জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। আর উৎপাদন ব্যয়ের সেই চাপ শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনোভাবে অর্থনীতি ও জনগণের ওপর পড়ে।

বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় মূল্য অবশ্য সাধারণ মানুষই দেয়।

ঢাকার একজন অফিসকর্মী হয়তো লোডশেডিংয়ের সময় মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে বসে থাকতে পারেন। একটি বড় প্রতিষ্ঠান জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারে। বড় ব্যবসায়ী বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারেন। কিন্তু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই সুযোগ কোথায়?

জেনারেটর কেনার সামর্থ্য নেই। ইনভার্টার কেনার সামর্থ্য নেই। অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার সামর্থ্য নেই। অথচ বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে নিয়মিত।

এখানেই তৈরি হয় মানুষের ক্ষোভ।

আর সেই ক্ষোভ শুধু বিদ্যুৎ না থাকার কারণে নয়। বিদ্যুৎ না থাকার সঙ্গে যদি নির্ভুল তথ্য না থাকে, তাহলে ক্ষোভ আরও বাড়ে। মানুষ জানতে চায়, কখন বিদ্যুৎ আসবে? কেন যাচ্ছে? দিনে কত ঘণ্টা যাবে? কোথায় কত ঘাটতি? সমস্যা সমাধানে কী করা হচ্ছে?

কিন্তু অনেক সময় গ্রাহক এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর পান না।

একটি আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় গ্রাহকের সঙ্গে তথ্যের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ থাকবে না, সেটি যদি আগে থেকে জানা যায়, মানুষ নিজের কাজ পরিকল্পনা করতে পারে। কিন্তু হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, আবার কখনো কয়েক মিনিট পর আসা, আবার চলে যাওয়া, এই অনিশ্চয়তা মানুষের জীবনকে সবচেয়ে বেশি দুর্বিষহ করে তোলে।

লোডশেডিং শুধু অন্ধকার নয়, এটি অনিশ্চয়তা।

এই অনিশ্চয়তা সবচেয়ে বেশি আঘাত করে শিক্ষার্থীদের। পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থী যখন রাতের পর রাত বিদ্যুৎহীন থাকে, তখন তার ক্ষতির হিসাব কোনো পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না। গরমের রাতে শিশুর কান্না, অসুস্থ মানুষের কষ্ট, বৃদ্ধের শ্বাসকষ্ট, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর নষ্ট হওয়া পণ্য, ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবারের ক্ষতি, অনলাইননির্ভর কর্মীর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া, এসবই বিদ্যুৎ সংকটের অদৃশ্য মূল্য।

শিল্পখাতের ক্ষতিও কম নয়।

কারখানার উৎপাদন একবার থেমে গেলে শুধু মেশিন বন্ধ হয় না। কাঁচামাল, শ্রমঘণ্টা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সময়ের ক্ষতি হয়। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘ লোডশেডিং কখনো কখনো দিনের পুরো আয় নষ্ট করে দিতে পারে।

কৃষিতেও এর প্রভাব পড়ে। সেচনির্ভর কৃষি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো সেচ না হলে কৃষকের উৎপাদন ব্যাহত হয়। অথচ কৃষকের কাছে বিদ্যুৎ সংকট মানে শুধু অন্ধকার নয়, ফসলের ঝুঁকি।

তাই বিদ্যুৎ সংকটকে কেবল বিদ্যুৎ বিভাগের সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প এবং জনজীবনের সমস্যা।

তবে সমালোচনার জায়গা এখানেই শেষ নয়।

আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রবণতা দেখা গেছে, সংকট তৈরি হলে তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা। একটি কেন্দ্র বন্ধ হয়েছে, অন্য কেন্দ্র চালানো হয়েছে। কোথাও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে, কোথাও তেলচালিত কেন্দ্র বাড়তি উৎপাদনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান কতটা হয়েছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

বিদ্যুৎ খাতে পরিকল্পনা হতে হবে অন্তত ১০ থেকে ২০ বছর সামনে রেখে। কোন সময়ে কত চাহিদা হবে, কোন অঞ্চলে শিল্প বাড়বে, কত গ্যাস পাওয়া যাবে, কয়লার সরবরাহ কোথা থেকে আসবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান কত হবে, সঞ্চালন সক্ষমতা কত বাড়াতে হবে, বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন কীভাবে হবে, এসব প্রশ্নের সমন্বিত উত্তর প্রয়োজন।

আর প্রয়োজন জবাবদিহি।

কোনো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তার কারণ প্রকাশ করতে হবে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকলে পরিকল্পনা কী ছিল, কেন নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হলো না, জ্বালানি সংকট হলে সরবরাহ পরিকল্পনা কোথায় ব্যর্থ হয়েছে, এসব নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা উচিত।

কারণ বিদ্যুৎ শুধু একটি সেবা নয়, এটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি।

আজকের বাংলাদেশে মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, ঘরে ইন্টারনেট আছে, অনলাইন ব্যাংকিং আছে, ই-কমার্স আছে, রাইড শেয়ারিং আছে, ফ্রিল্যান্সিং আছে। কিন্তু বিদ্যুৎ যদি অনিশ্চিত হয়, তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশের পুরো কাঠামোটাই ঝুঁকিতে পড়ে।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জনগণ বিদ্যুতের জন্য ভিক্ষা চায় না। তারা তাদের অধিকার অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য সেবা চায়। বিল দিলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া উচিত, অন্তত একটি যৌক্তিক ও পূর্বানুমানযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা থাকা উচিত।

আমাদের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা কি আবার সেই পুরোনো লোডশেডিংয়ের বাংলাদেশে ফিরে যাব, নাকি সংকটকে শিক্ষা হিসেবে নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত সংস্কার করব?

বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান কেবল আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নয়। বরং প্রয়োজন জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, আধুনিক সঞ্চালন ব্যবস্থা, শক্তিশালী বিতরণ নেটওয়ার্ক, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, চাহিদা ব্যবস্থাপনা এবং সর্বোপরি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি।

সরকারকে বুঝতে হবে, বিদ্যুতের খুঁটি কিংবা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছবি দিয়ে উন্নয়ন মাপা যায় না। উন্নয়ন মাপতে হয় একজন সাধারণ নাগরিকের ঘরে সুইচ চাপার পর আলো জ্বলে কি না, সেই বাস্তবতা দিয়ে।

আজ দেশের মানুষ সেই বাস্তবতার মুখোমুখি।

একদিকে উন্নয়নের বড় বড় গল্প, অন্যদিকে রাতের অন্ধকারে মোমবাতি কিংবা মোবাইলের আলো। একদিকে হাজার হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার হিসাব, অন্যদিকে কয়েক হাজার মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে জনজীবন অচল হয়ে যাওয়া।

এই বৈপরীত্যের ব্যাখ্যা রাষ্ট্রকে দিতে হবে। 

কারণ অন্ধকার শুধু ঘরকে অন্ধকার করে না। দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট মানুষের আস্থাকেও অন্ধকার করে দেয়।

আর কোনো দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, জনগণের আস্থা।

সেই আস্থার আলো যেন নিভে না যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।