বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী হত্যাকাণ্ডে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:১০ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩০ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দক্ষিণ বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার লিলি (১৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি হোটেল কর্মচারী মো. মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পেছনে প্রেমঘটিত বিরোধের তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (১২ জানুয়ারী) সকালে র‍্যাবের পাঠানো এক বার্তায় নিহত লিলির সঙ্গে মিলনের সুসম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে পালিয়ে যাওয়ার কথাও হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে লিলি এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যা করে মিলন।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সে জানায়, লিলি বিভিন্ন সময় ইঙ্গিতের মাধ্যমে তার প্রতি প্রেমের অনুভূতি প্রকাশ করত। পরিবারের সদস্যরা গ্রামের বাড়িতে গেলে তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন দুপুরে মিলন আবারও পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু লিলি এতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলে, রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে সে কোনো রেস্তোরাঁ কর্মচারীর সঙ্গে যাবে না এবং অপমানসূচক মন্তব্য করে—‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াও’।

আরও পড়ুন: মুছাব্বির হত্যায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি: ডিবি

এই কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে মিলন হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানায়, নৃশংস এই হত্যার বিস্তারিত তথ্য আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

এর আগে শনিবার দুপুরে দক্ষিণ বনশ্রীর ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি বাসায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত লিলি স্থানীয় রেডিয়েন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার বামৈন গ্রামের সজীব মিয়ার মেয়ে।

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার কবরে বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশনের শ্রদ্ধা ও দোয়া মাহফিল

এ ঘটনায় রোববার সকালে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় হোটেল কর্মচারী মিলন মল্লিককে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লিলিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। হত্যার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

নিহতের বড় বোন সোভা শুরু থেকেই মিলনের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তাদের একটি খাবারের হোটেল রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মিলন খাবার নিতে বাসায় এলে এত রাতে আসা নিয়ে লিলির সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। শনিবার দুপুরেও সে খাবার নিতে আসে এবং তার আচরণ অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সোভা বলেন, আমি জিমে যাওয়ার সময় লিলিকে দরজা লক করে দিতে বলেছিলাম। পরে ফিরে এসে দেখি দরজা খোলা, ঘরের ভেতর সবকিছু এলোমেলো। মেঝেতে আমার বোন পড়ে ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর দেখি তার গলায় রশি পেঁচানো এবং গলা কাটা। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।