সানজি গ্রুপের সাড়ে ১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার মূল অভিযুক্ত পার্থ সারথী হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত নয়, বরং ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাবেক অডিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, নথি চেয়েছে দুদক
গ্রেপ্তার পার্থ সারথী হালদার (৪৩) সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শাখারীকাঠি এলাকায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় পার্থ সারথী হালদারসহ অন্য অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে বিভিন্ন কৌশলে কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে শুরু হলো এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক-২০২৬
অভিযোগ অনুযায়ী, কোম্পানির মালিকের স্বাক্ষরযুক্ত খালি চেকের প্রাপকের নাম পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দেওয়া এবং ব্যাংক ট্রান্সফার ও আরটিজিএসের মাধ্যমে ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ গ্রহণ করা হয়।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারে ভুয়া খতিয়ান তৈরি করে গ্রাহকদের অর্থ জমা দেখানো হলেও ব্যাংক বিবরণী ও পার্টি লেজার পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট অর্থ কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে জমা না হওয়ার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সিআইডি।
এ ঘটনায় সানজি গ্রুপের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভাটারা থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ১৩। দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৮, ৪২০, ৪৬৮, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
সিআইডির তদন্তে অভিযোগ পাওয়া গেছে, পার্থ সারথী হালদার বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ নিজের ব্র্যাক ব্যাংক হিসাবে জমা ও স্থানান্তরের মাধ্যমে ২ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৮৯৭ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত নগদ অর্থের হিসাব সমন্বয়, সফটওয়্যারে ভুয়া খতিয়ান তৈরি এবং এনআরবিসি ব্যাংকের দুটি হিসাব ব্যবহারের মাধ্যমেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সানজি গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান পানামা সিএনজি কনভার্সন থেকেও একই কৌশলে ৬৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পার্থ সারথী হালদার এককভাবে বিভিন্ন তারিখে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও খালি চেক সংগ্রহ করে পরে চেকে পছন্দমতো প্রাপকের নাম বসিয়ে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়। এভাবে সর্বমোট ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার শান্তিনগর মোড় এলাকা থেকে এ মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে জনি (৩৭) এবং সৈয়দ আরব আলীকে (৫২) গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ সারথী হালদার অপরাধের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত চলছে। অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং অর্থ লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।





