আগাম সবজি চাষে চরাঞ্চলে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

Sadek Ali
মো. মাসুদ রানা, কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:৫৭ অপরাহ্ন, ০৯ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ১:২৭ অপরাহ্ন, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুমিল্লার গোমতী নদীর চরাঞ্চলে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মাঠজুড়ে দেখা যাচ্ছে শীতকালীন আগাম সবজি চাষের প্রাণচাঞ্চল্য। কেউ ফসলে আগাছা বাছাই করছেন, কেউ পোকামাকড় দমনে ওষুধ ছিটাচ্ছেন, আবার কেউ সেচের পানিতে ফসল সজীব রাখছেন। নদীর পাড়জুড়ে সবুজ ফসলের সমারোহে প্রাণ ফিরে পেয়েছে চরের জনপদ।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) কুমিল্লার সদর উপজেলার পাঁচথুবি ইউনিয়নের জালুয়াপাড়া গিয়ে দেখা গেছে, চরের কৃষকরা বিভিন্ন সবজি খেতের পরিচর্চা করছেন। কেউ কেউ জমি প্রস্তুত করছেন চারা রোপনের জন্য। তবে গোমতীর চরগুলোতে ইতোমধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মুলা, টমেটো, শিম, লাউ, শসা, মিষ্টিকুমড়া ও ধনে পাতা, লালশাকসহ বিভিন্ন আগাম সবজির চাষ হয়েছে। চরাঞ্চলের উর্বর বালুমিশ্রিত দোআঁশ মাটিতে এসব ফসল ভালো ফলন দেয়। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, প্রতি বছর শীত মৌসুমে এসব সবজি বিক্রি করে তারা ভালো লাভ পান, তাই আগাম সবজি চাষে তারা আগ্রহী। আগামী ১০/১৫ দিনের মধ্যে এসব সবজি বাজারজাত করতে পারবেন বলে জানায় কৃষকরা। 

আরও পড়ুন: সরিষা আর মৌচাষে আগ্রহ বাড়ছে নাসিরনগরের কৃষকদের

পাঁচথুবি ইউনিয়নের মধ্য জালুয়াপাড়া গ্রামের কৃষক মো. রুবেল মিয়া বলেন, আমি প্রায় ২০০ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষ করি। গতবারের বন্যায় কিছু ক্ষতিগ্রস্থ হলেও বন্যার পরে ফসল পুষিয়ে নেওয়া গেছে। কিন্তু এবার লাগাতার বৃষ্টির কারণে ভালোভাবে বীজ রোপন করা যায়নি। জমিতে পানি লেগে ছিল। ভাবছিলাম শীতে আগাম সবজি বাজারে তুলব ভালো দাম পাব, কিন্তু এবার আর তা হবে না। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম ও মুলা তুলব। দাম ভালো থাকলে তারা আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নেওয়া যাবে। 

একই এলাকার কৃষক হাসিনা বেগম বলেন, “আমার দুই বিঘা জমিতে বাঁধাকপি, ফুলকপি ও মুলা লাগিয়েছি। এখন নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার আর পোকামাকড় দমন করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার ফসল ভালোই হবে আশা করি। তবে বৃষ্টির কারণে শীতের মাঝামাঝি সময়ে ফসল বাজারে নেওয়া যাবে। 

আরও পড়ুন: জৈন্তাপুরে রবিশস্য ও ফলের মিশ্র বাগান গড়তে কাজ করছে কৃষি বিভাগ

নীলফামারী জেলা কৃষক আবদুর রশিদ। তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে কুমিল্লার গোমতীর চরে এসে শীতকালীন বিভিন্ন সবজির বীজ তলা চারার চাষ করেন। তিনি দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা  বলেন, ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে সময়মতো বীজতলা তৈরি করলেও বৃষ্টিতে পানি জমে অনেক চারা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে বীজ বপন করতে হয়েছে, এতে খরচ ও শ্রম দুই-ই বেড়েছে। কেউ কেউ প্রাথমিক পর্যায়ে লোকসানের মুখেও পড়েছেন।

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ বানিন রায় বলেন, কুমিল্লার গোমতীর চরাঞ্চলের কৃষকরা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। তারা ফসলের রোগবালাই দমন, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত কৃষি অফিসের পরামর্শ নিচ্ছেন। গোমতীর চরে কয়েক হাজার কৃষক প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ করছে। কিছু জায়গায় সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে, তবে এখন আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় কৃষকরা দ্রæত ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের সার, কীটনাশক ও কারিগরি পরামর্শসহ সবধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আগাম সবজি চাষে লাভজনক হওয়ার কারণে কৃষকরা এখন ঐতিহ্যবাহী ধান চাষ ছেড়ে ধীরে ধীরে সবজির দিকে ঝুঁকছেন। এতে পরিবারের আয় বাড়ছে, কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হচ্ছে।,