কেরানীগঞ্জে ভূমিদস্যু জাকির বাহিনীর বিরুদ্ধে ৫০ পরিবারের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:১৭ অপরাহ্ন, ১১ মে ২০২৬ | আপডেট: ৯:১৭ অপরাহ্ন, ১১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ-এ ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বিপুর ভাই দিপুর সহযোগিতায় জাকির বাহিনী প্রায় ৫০টি বাড়ি দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী সরকার পতনের পর বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় আবারও নিরীহ লোকজনের বাড়িঘর দখল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

সোমবার দুপুর রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)-এর মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার বাসিন্দা মো. গাফ্ফার এ অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে হিউম্যানিস্ট মুভমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় যত হিন্দু সম্পত্তি ছিল, তার সব জায়গা সন্ত্রাসী জাকির হোসেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহম্মেদ ও তার সহযোগী জাকির বাহিনী একের পর এক দখল করে নিয়েছে। প্রায় ৭ হাজার বিঘা সম্পত্তির মালিক সন্ত্রাসী জাকির বাহিনীর নেতা জাকির দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভয়ে অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এখন ভূমিদস্যু জাকিরের নজর পড়েছে তার বসতবাড়ির ওপর। তার ভয়ে গত কয়েক বছর বিদেশে অবস্থান করলেও দেশে ফিরে আবারও অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জাকির হোসেন তাদের বাড়ি নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন। সিএস ও এসএ-৮৫৩, আরএস ২০৮০ নম্বর দাগের ৫৫ শতাংশের মধ্যে ২৩ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। অভিযোগ করা হয়, জাকির হিন্দু সম্পত্তিগুলো কৌশলে জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল করে নিয়েছে। মৃত হিন্দুদের জীবিত দেখিয়ে এবং মুসলমানদের হিন্দু সাজিয়ে প্রায় সাত হাজার বিঘা জমি দখল করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে জননিরাপত্তা জোরদারে বসানো হচ্ছে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, তাদের জায়গার ফলগাছসহ বিভিন্ন বৃক্ষ কেটে ২০২৩ সালে জমি দখল করা হয়। বাধা দিতে গেলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

ভূমিদস্যুদের ভয়ে ২০২৪ সালে তিনি কুয়েতে চলে যান বলে জানান গাফ্ফার। সেখানে দালালের প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসেন। পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তাকে ডেকে নিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী জাকিরের শ্যালক সেনাবাহিনীর মেজর, কর্নেল ও সচিবালয়ের বড় কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। জাকির প্রথমে দখলকৃত জমি তার ভাইয়ের নামে লিখে নিয়ে পরে নিজের নামে হস্তান্তর করেন। এভাবে এলাকায় প্রায় ৭ হাজার বিঘা জমির মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন গাফ্ফার।

এছাড়া দালালের মাধ্যমে মূল মালিকদের কাছ থেকে নামমাত্র টাকায় জমি লিখে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। অনেক হিন্দুকে হত্যার হুমকি দিয়ে নামমাত্র মূল্যে সম্পত্তি লিখে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সন্ত্রাসী জাকির বাহিনীর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী মোহাম্মদ গাফ্ফার ও তার পরিবার সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।