বিশ্বকাপের উন্মাদনায় কালশী বস্তিতে আনসারের ‘স্ট্রিট গোল চ্যালেঞ্জ’, অংশ নিল সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনাকে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের আনন্দ, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে রাজধানীর কালশী বস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ফুটবল উৎসব ২০২৬’-এর অন্যতম আকর্ষণ ‘স্ট্রিট গোল চ্যালেঞ্জ’।
শনিবার (১৮ জুলাই) আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে অংশ নিয়ে কালশী বস্তির শিশু-কিশোররা খেলাধুলার আনন্দের পাশাপাশি নতুন স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা পায়।
আরও পড়ুন: পল্লবী থানা থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামির পলায়ন
উন্মুক্ত মাঠে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় কালশী বস্তির বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোর স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি সফল গোল তাদের কাছে আনন্দ, আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে ওঠে। খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা এবং ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশের বার্তাই ছিল এ আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিচালক (ডিএমএ) মো. আসাদুজ্জামান গনী বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবলের সার্বজনীন আনন্দ সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোররাও যেন এই বৈশ্বিক উৎসবের আনন্দে শামিল হতে পারে, সেই ভাবনা থেকেই বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘স্ট্রিট গোল চ্যালেঞ্জ’-এর আয়োজন করেছে।
আরও পড়ুন: গুলশান চত্বরে গাছ কেটে রাস্তার উপর এলইডি সাইন স্থাপনে দুর্ঘটনার আশঙ্কা
প্রতিযোগিতা শেষে চারটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম ক্যাটাগরিতে পাঁচজনকে স্কুল ব্যাগ, দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে আটজনকে ছাতা, তৃতীয় ক্যাটাগরিতে আটজনকে পানির পট এবং চতুর্থ ক্যাটাগরিতে নয়জনকে পেন্সিল বক্স দেওয়া হয়। এছাড়া নির্ধারিত লক্ষ্যে গোল করতে না পারলেও অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করতে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে কলম প্রদান করা হয়।
শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং দর্শকদের উৎসাহে কালশী বস্তি প্রাণচঞ্চল ফুটবল উৎসবে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানটি ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ প্রমাণ করে যে খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি শিশু-কিশোরদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার, ইতিবাচক জীবনবোধ গড়ে তোলা এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে মূলধারার উৎসব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার একটি কার্যকর মাধ্যম। বিশ্বকাপকে ঘিরে এই আয়োজন শিশুদের মনে স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পুরো আয়োজনটি পরিচালক (মিডিয়া সেল, সদরদপ্তর) ও অধিনায়ক (এজিবি) মো. আইয়ুব আলী, ডিএমএ জোন কমান্ডারগণ, থানা কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষকদের উপস্থিতিতে সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।





