মোহাম্মদপুরে জমি নিয়ে বিরোধ

আদালতের নির্দেশের পরও বিবাদীর পক্ষে পুলিশ, বসতিদেরকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১:৫৬ পূর্বাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা একটি পরিবারের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরও পুলিশ তাদের এক দিনের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বসতিরা। এ ঘটনায় পরিবারটির সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দেরও কেউ কেউ পুলিশের এমন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে পুলিশ বলছে, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা চলছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মোহাম্মদপুরের জাফরাবাদে ‘বিত্ত বিভব উন্নয়ন প্রাইভেট লিমিটেড (সৈকত হাউজিং)’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন একেএম শহীদুল্লাহ পাটোয়ারি। তিনি মোহাম্মদপুরের সরাইযাত্রাবাদ ২৫৭ নম্বর মৌজার সিএস ও এসএ ১০৮ নম্বর দাগের ১ একর ৫৪১ শতাংশ জমি ১৯৯৩ সালের ২ আগস্ট ৩৪২০ নম্বর দলিলে কেনেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: মতিঝিলে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান

পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে ওই দাগের ৩ কাঠা জমি বায়নামূলে স্থানীয় নুর মোহাম্মদ পাটোয়ারির ছেলে আব্দুল হাই পাটোয়ারির কাছে বিক্রি করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। জমি কেনার পর আব্দুল হাই সেখানে বসবাস শুরু করেন। ২০১১ সালে তার মৃত্যুর পর পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়েসহ সাত সন্তান ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রায় ৩০ বছর ধরে সেখানে আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন তারা।

আব্দুল হাইয়ের তৃতীয় ছেলে শিমুল পাটোয়ারি জানান, প্রায় ২০ দিন আগে রায়েরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আক্কেল আলী তাদের বাড়িতে যান। তিনি মৌখিকভাবে জানান, ওই জমি ‘ফেনী সমিতির’ লোকজন দাবি করছেন এবং তাদের কাছে জমির দলিল রয়েছে।

আরও পড়ুন: শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন হত্যা: মোটরসাইকেলসহ দুই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

শিমুলের দাবি, তারা পুলিশকে জানান, জমিটি কিনে প্রায় ৩০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন এবং জমি-সংক্রান্ত কাগজপত্রও তাদের কাছে রয়েছে। পরে পুলিশ তাদের নথিপত্র নিয়ে ফাঁড়িতে যেতে বলে।

পরিবারটির অভিযোগ, গত ৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে খুরশিদ আনোয়ার ভূইয়া নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা সেখান থেকে চলে যায় এবং যাওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বসতিরা।

এরপর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আব্দুল হাইয়ের সন্তানরা আদালতের আশ্রয় নেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলায় বিবাদী খুরশিদ আনোয়ার ভূইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। জমিটি নিয়ে নজরদারি রাখার জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

পরিবারটির অভিযোগ, আদালতের আদেশের পরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে শিমুল পাটোয়ারির স্ত্রী ফাতেমা ও তার ছোট ভাই রফিকুল ইসলামকে স্থানীয় পুলিশ বিটে ডেকে নেওয়া হয়।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে তেজগাঁও জোনের এডিসি জুয়েল রানা এবং রায়েরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আক্কেল আলী উপস্থিত ছিলেন। তারা এক দিনের মধ্যে ওই জমি থেকে চলে যেতে বলেন এবং তা না হলে উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান বলে অভিযোগ করেন বসতিরা।

পরিবারটির দাবি, এ সময় আদালতের আদেশের বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তাদের বলা হয়, ‘আদালতের আদেশ আদালতে’; জমি না ছাড়লে উচ্ছেদ করা হবে।

শিমুল পাটোয়ারির স্ত্রী ফাতেমা আরও অভিযোগ করেন, বিবাদীরা তাদের বাড়িতে হামলা করেছে এবং মারধরের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালে তাদের পক্ষ থেকে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রায়েরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আক্কেল আলী বলেন, তাদের ডেকে আনা হয়েছিল। বিষয়টি তেজগাঁও জোনের এডিসি জুয়েল রানা দেখছেন উল্লেখ করে তিনি তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সেখানে জমি নিয়ে ঝামেলা চলছে।

তেজগাঁও জোনের এডিসি জুয়েল রানার কাছে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়গুলো শোনার পর বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।

জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি ও আদালতের আদেশের আলোকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নির্ধারিত হওয়ার কথা। এদিকে উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগের কারণে পরিবারটির সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।