শেওড়াপাড়ায় দুই বোনকে হত্যা

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, ১০ মে ২০২৫ | আপডেট: ৫:০১ পূর্বাহ্ন, ১০ মে ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার শামীম স্বরণি এলাকা থেকে শুক্রবার (৯ মে) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে রক্তাক্ত অবস্থায় দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করছে পুলিশ। নিহতরা হলেন-মরিয়ম বেগম (৬০) ও সুফিয়া বেগম (৫২)। পুলিশের ধারণা, তাদের হত্যা করা হয়েছে। তারা সম্পর্কে আপন বোন।

ডিমিরপুর থানা–পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরিয়ম বেগম সপরিবার পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় একটি ভবনের দোতলায় থাকতেন। মরিয়মের ছোট বোন অবিবাহিত এবং তিনি তার সঙ্গেই থাকতেন। সকালে মরিয়মের একমাত্র সন্তান নুসরাত জাহান (বৃষ্টি) মা ও খালা সুফিয়াকে বাসায় রেখে গুলশানে নিজ কর্মস্থলে যান। তিনি সেখানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মরিয়মের স্বামী কাজী আলাউদ্দিন বিশেষ কাজে সকালে বরিশালের বাবুগঞ্জ যান। তিনি বন বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে মারধরে কেটে ফেলতে হয়েছে একটি পা, বিচার দাবি

রাত আটটার দিকে নুসরাত ফিরে দরজা নক করে বাসার ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাচ্ছিলেন না। পরে তার কাছে থাকা চাবি দিয়ে তালা খুলে তিনি ভেতরে ঢুকে মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ডাইনিং রুমের মেঝেতে এবং খালাকে একটি শোবার ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তারা মিরপুর থানায় খবর দেন।

পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান, মিরপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান এবং মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন ঘটনাস্থলে যান। রাত ১১টার পর পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জের নিকলীতে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ ছয়জন গ্রেফতার

ওসি সাজ্জাদ রোমন বলেন, মরিয়ম ও সুফিয়ার মাথায় শিল–পাটার আঘাত এবং পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি ও শিল–পাটা জব্দ করেছে। ওই বাসা থেকে টাকা, স্বর্ণালংকারসহ কোনো মালামাল খোয়া যায়নি। বাসার দরজা–জানালা ও গ্রিল অক্ষত। বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সকালের পর চেনাজানা লোকেরা ওই বাসায় ঢোকেন। হয়তো সন্ধ্যার দিকে দুই বোনকে খুন করে তারা পালিয়ে যান।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মাকছুদের রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিক বুঝতে পারছেন না। মরিয়মের শোকার্ত মেয়ে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। বাড়ির ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে।