ঘন কালো মেঘে ঢেকেছে আকাশ, সিলেট-ময়মনসিংহে ভারী বৃষ্টির শঙ্কা
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশজুড়ে ঘন কালো মেঘের বিস্তার দেখা গেছে, অনেক এলাকায় সকালেই নেমে এসেছে সন্ধ্যার মতো অন্ধকার। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হওয়ায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলে সর্বোচ্চ ১৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বেশি থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে নিহত ৩
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় চালু হলো ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে তুলনামূলক কম বৃষ্টি হলেও দেশের অধিকাংশ এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে। তিনি আরও জানান, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে, তবে ২ মে থেকে ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাত কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে এবং প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর ফলে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কর্তব্যরত কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও বুধবার তা ছাড়িয়ে যেতে পারে।





