সন্ত্রাসী টিটন হত্যাকাণ্ড
আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্ছি হেলালকে প্রধান আসামি করে মামলা
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাইম আহমেদ টিটন (৫৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোহাম্মদপুরের আলোচিত সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় এই মামলাটি করেন। আলোচিত এই খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে নিউমার্কেট থানার শহীদ শাহনেওয়াজ হলের সামনে বটতলা এলাকায় টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে টিটনের কপাল, পিঠ, হাত ও বগলে একাধিক গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: উগ্রবাদী সংগঠনের ৪ সদস্য গ্রেফতার, অস্ত্র-ড্রোনসহ সরঞ্জাম উদ্ধার
মামলায় পিচ্চি হেলাল ছাড়াও কিলার বাদল (কাইল্লা বাদল), শাজাহান ও রনি ওরফে ভাঙ্গারি রনিসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর গত বছরের ১৩ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান টিটন। এরপর তিনি অপরাধ জগত ছেড়ে নতুন করে ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করছিলেন। একটি গরুর হাটের ইজারা (শিডিউল) কেনা নিয়ে আসামিদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। গত ২৭ এপ্রিল টিটন তার ভাইকে জানিয়েছিলেন, প্রতিপক্ষ তাকে সমঝোতার কথা বলে ডেকেছে। মূলত এই ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে বাদী দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় গুলিতে এক যুবক নিহত
তবে পুলিশি সূত্রগুলো ভিন্ন কিছু মোড় সামনে আনছে:
কাইল্লা বাদলের স্ত্রীকে নিজের কাছে রাখা নিয়ে টিটনের সাথে বাদলের ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল। মেহেদী হাসান রুবেল ওরফে 'তার চোর রুবেল' কর্তৃক ডিপিডিসির তার চুরির টাকার ভাগ চাওয়া নিয়ে টিটনের সাথে দ্বন্দ্ব চলছিল। জেল থেকে বের হওয়ার পর টিটন পিচ্চি হেলালের সাথে যোগ দেওয়ায় অন্য শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজেদুল হক ইমনের সাথে তার দূরত্ব তৈরি হয়। উল্লেখ্য, টিটন ছিলেন ইমনের শ্যালক।
১৯৬৬ সালে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জন্মগ্রহণ করা টিটন ৯০-এর দশকে অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন। ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম ছিল ২ নম্বরে। তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যাসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। ২০০৪ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর ২০১৪ সালে তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন, তবে ২০২৪ সালে জামিনে মুক্তি পান।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশ ইতিমধ্যেই মাঠে কাজ শুরু করেছে এবং বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





