ডিবির সাবেক কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপে ইতোমধ্যে স্বাক্ষর করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এখন এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
আরও পড়ুন: কামরাঙ্গীরচরে যুবক খুন, ৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই ঘাতক গ্রেপ্তার
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে। সে সময় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি আলোচিত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন গোলাম সাকলায়েন। তদন্ত চলাকালে চিত্রনায়িকা পরীমণি-এর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজে পরীমণির সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনে যাতায়াতের বিষয়টিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ডিবি থেকে প্রত্যাহার করা হয় এবং বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আরও পড়ুন: বিআরটিএ ওয়েবসাইট ক্লোন করে প্রতারণা, ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, তদন্তে সংগৃহীত তথ্য, কল রেকর্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কথোপকথন এবং অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, তাদের সম্পর্ক পেশাগত সীমা অতিক্রম করে ব্যক্তিগত পর্যায়ে গিয়েছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তার আচরণ সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও নৈতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
বিভাগীয় তদন্ত শেষে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হলেও তার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে গোলাম সাকলায়েন কিংবা পরীমণির কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, এটি একটি প্রশাসনিক ও বিভাগীয় সিদ্ধান্ত। সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও সরকারি নথির ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।





