মুসাব্বির হত্যা: এই দুই কিলার কে খুঁজছে পুলিশ
রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় আলোচিত রাজনৈতিক হত্যা মামলায় নতুন অগ্রগতি এসেছে। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দুইজন শুটারের মুখ শনাক্ত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলাকারীদের ধরতে একাধিক টিম কাজ করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলাকায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধ—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত এগোচ্ছে। কাওরান বাজারকেন্দ্রিক সাম্প্রতিক অস্থিরতার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পাইপলাইনের ওপর ঘর তৈরি করে তেল চুরি, আটক ১
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাতে স্টার কাবাব হোটেলের দ্বিতীয় তলা থেকে আলোচনা শেষ করে সিটি হোন্ডা সার্ভিস পয়েন্টের সামনে দিয়ে গলির দিকে যাচ্ছিলেন মুসাব্বির ও তার সহযোগী মাসুদ। এ সময় পেছন থেকে দুই যুবক এগিয়ে এসে খুব কাছ থেকে মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তার ডান হাতের কনুইয়ের নিচে এবং আরেকটি পেটের ডান পাশে লাগে। ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
মুসাব্বিরকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার সঙ্গে থাকা আবু সুফিয়ান মাসুদকেও লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। গুলির শব্দে পথচারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। শুটাররা কোমরে অস্ত্র গুঁজে হেঁটে মূল সড়কের দিকে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণা, চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলায় শুধু দুইজন নয়, আরও কয়েকজন সহযোগী ছিল। কেউ পেছনের গলি দিয়ে সরে যায়, আবার দুজন সামনে দিয়ে পালিয়ে যায়। অস্ত্রধারীদের ভয়ে প্রথমে কেউ এগিয়ে যেতে সাহস পাননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মুসাব্বির ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরবের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। তিনি আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং এলাকায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছিলেন। রাজনৈতিক এই অবস্থানই তার জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসাব্বিরের শরীরে একাধিক গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পেটের ডান পাশে আধা ইঞ্চি ছিদ্র, ডান হাতের কনুইয়ের পেছনে গুলির ক্ষত এবং বাম হাঁটুতে জখম ছিল।
নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম জানান, বুধবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার আগে স্বামী তাকে কফি বানাতে বলেছিলেন। সেটাই ছিল তাদের শেষ কথা। তিনি বলেন, স্বামী রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর শত্রু তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন এবং সব সময় সতর্ক থাকতেন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৭.৬৫ বোরের তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দুইজন দুর্বৃত্তকে শনাক্ত করা গেছে। তাদের ধরতে থানা পুলিশ, ডিবি ও র্যাব সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এ ঘটনায় মুসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম তেজগাঁও থানায় ৪–৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ বলছে, শুটারদের শনাক্ত করা গেলে মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হবে।





