বাসায় শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন
বিমানের সাবেক এমডির অস্বীকৃতি, গৃহকর্মী সুফিয়ার জবানবন্দি
ঢাকার আদালতে ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এ আদেশ দেন। মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী এস এম পিয়ারুল ইসলাম নাসিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: শ্যামলীতে সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি: মূলহোতা মঈনসহ ৭ জন গ্রেপ্তার
রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে এমডি শফিকুর রহমান দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে বাসার গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
আদালতের প্রশিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রিমান্ড শেষে সাফিকুর রহমান ও গৃহকর্মী সুফিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিচারকের খাসকামরায় নেওয়া হয়। এ সময় এমডি সাফিকুর রহমান জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে সুফিয়া জবানবন্দি দেন। এরপর দু'জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে মারধরে কেটে ফেলতে হয়েছে একটি পা, বিচার দাবি
এর আগে গ্রেপ্তারের পর গত ২ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ১০ ফেব্রুয়ারি শফিকুরের পাঁচ দিন ও তার স্ত্রী বিথীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। একই সঙ্গে গৃহকর্মী রুপালি খাতুনের পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি রুপালিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তরা ৯ নং সেক্টরের শফিকুর রহমানের বাসায় নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানায়, ওই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট মেয়ে খুঁজছে। পরে তাদের সঙ্গে দেখা করে গত বছরের জুন মাসে মেয়েকে ওই বাসায় কাজে দেন মোস্তফা। ২ নভেম্বর মেয়েকে শেষবার সুস্থ অবস্থায় দেখে তার বাবা। এরপর আর মেয়েকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি আসামিরা।
৩১ জানুয়ারি বিথী মোস্তফাকে ফোন করে জানান, মেয়েটি অসুস্থ। পরে মেয়েকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি দেখতে পান, মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর জখম। বিথীকে জিজ্ঞাসা করলে সদুত্তর দিতে পারে না। মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসাধিন অবস্থায় মেয়েটি জানায়, ২ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান এবং বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারপিট করেছেন। তারা তাকে খুন্তি আগুনে গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়েছেন। ১ ফেব্রুয়ারি মামলার অভিযোগ দায়ের করেন হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা।





