ঈদুল ফিতরের আগেই চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি: ত্রাণমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৩২ অপরাহ্ন, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩২ অপরাহ্ন, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই অগ্রাধিকারভিত্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা লালমনিরহাট সফরে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষ, খাদে পড়ে নিহত ১, আহত অন্তত ২৫

মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত হতদরিদ্র ও সহায়তা প্রাপ্য পরিবারগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে সরকারি সহায়তা সরাসরি ও স্বচ্ছতার সঙ্গে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়মের সুযোগ কমিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারগুলো সরকারি খাদ্য সহায়তা, নগদ ভর্তুকি, দুর্যোগকালীন ত্রাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা অগ্রাধিকারভিত্তিতে পাবে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে এবং ডিজিটাল ডাটাবেইজ তৈরি করা হবে, যাতে একই পরিবার একাধিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ না থাকে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বৈশাখী মেলা ঘিরে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, আসন্ন শুকনো মৌসুমে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও কৃষি সহায়তায় তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও বন্যা ঝুঁকি হ্রাস পাবে। পাশাপাশি চলতি বছরে সারা দেশে পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রমজান ও ঈদ প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষের ইফতার, সেহরি ও তারাবিহ নামাজ নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এর আগে মন্ত্রী লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা, মোস্তফী, মহেন্দ্রনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা ও দলের আদর্শকে ধারণ করে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড জোরদার করতে হবে।” তিনি স্থানীয়দের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে জেলার হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী সরকারি সহায়তা আরও সহজে ও স্বচ্ছভাবে পাবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বৈষম্য কমবে।