রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে নরওয়ে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অবস্থান দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: চীনে বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ কর্মকর্তা
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বাংলাদেশ-নরওয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নরওয়ের প্রাথমিক স্বীকৃতি এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি নরওয়ের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, পাটজাত পণ্য এবং হস্তশিল্প রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, প্যাকেজিং শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নরওয়েজিয়ান বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নরওয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তাই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি কক্সবাজারে আশ্রিত বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য নরওয়ের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই এই সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান। এ লক্ষ্যে নরওয়ে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
বৈঠকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং জানান, নরওয়ে ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।





