বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:০৫ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৪:০৮ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে শনিবারের মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দুটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। এর অক্ষ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

শনিবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।

রোববারও রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার ও বুধবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন: ঢাকাসহ ১২ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা

উজানের মেঘালয় ও ত্রিপুরায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদনদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সুনামগঞ্জের মহেশখোলায়। এ ছাড়া নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ১০৭, পটুয়াখালীতে ৯৪, বরগুনায় ৯১ এবং পাবনায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদনদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকায় আগামী এক দিন পানি কিছুটা কমলেও পরবর্তী দুই দিন পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে আত্রাই নদীর পানি আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে নওগাঁ ও নাটোরের কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা ছুঁতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে দুটি স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে রয়েছে।

সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার কয়েকটি পয়েন্টেও নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদনদীর পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়তে পারে। তবে এ সময়ে পানি বিপৎসীমার নিচেই থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় নদনদীতে আগামী তিন দিন স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি জোয়ার হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।