বরগুনায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৫ অপরাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে এক নারী ও তার দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি পৃথক কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন বরগুনা পৌরশহরের কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী ইতি রাণী (৩৪) এবং তাঁদের দুই মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২) ও অনুরাধা বিশ্বাস (৩)। ইতি রাণী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আরও পড়ুন: শিক্ষা উন্নয়ন ও জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে: এমপি ডা. বাচ্চু

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস আগে ইতি রাণী ডাকবাংলোতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে যোগ দেন। প্রতিদিন সকাল ৯টার দিকে কর্মস্থলে এলেও বুধবার তিনি বেলা ১১টার দিকে দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। পরে তৃতীয় তলার একটি কক্ষ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে বড় মেয়ে আরাধা বিশ্বাসের মরদেহ এবং অপর একটি কক্ষ থেকে ইতি রাণী ও ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: কাপাসিয়া প্রেসক্লাব পরিদর্শনে জেলা পরিষদ প্রশাসক চৌধুরী ইশরাক সিদ্দিকী

নিহতের স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার আগে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। তিনি বাসার জন্য বাজারও করে দেন। পরে দুপুরে বাড়িতে ফিরে স্ত্রী ও সন্তানদের না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কী কারণে তারা ডাকবাংলোতে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ডাকবাংলোর বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। পুলিশ ও জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা জানান, বড় মেয়ের মরদেহ যে কক্ষে পাওয়া গেছে, সেখানে কিছু ঘুমের ওষুধ ও পানির বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা নিয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।