এলপিজি সংকট কাটাতে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে বিপিসি

Any Akter
অর্থবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৩ অপরাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:৪৫ অপরাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) খাতে চলমান তীব্র সংকট নিরসন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দামের ওপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। এই বাস্তবতায় সরকারি পর্যায়ে আমদানির মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং কৃত্রিম সংকট মোকাবিলাই বিপিসির মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: বিএফআইইউর প্রধান হলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মামুন

বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান ১০ জানুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বেসরকারি অপারেটরদের অনেকেই আর্থিক ও লজিস্টিক জটিলতায় নিয়মিত আমদানি করতে পারছে না। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বিপিসি চেয়ারম্যানের মতে, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করা গেলে তা বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাতে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি হবে। তবে বিপিসির নিজস্ব টার্মিনাল ও খালাস সুবিধা না থাকায় বেসরকারি অপারেটরদের অবকাঠামো ব্যবহার করেই এই বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সব রেকর্ড ভেঙে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে সোনা

এ বিষয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। তিনি বলেন, গ্রাহকদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি দিতে সরকার আপাতত কেবল আমদানির দায়িত্ব নেবে। তবে গ্যাস সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের কাজ বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) বিপিসির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বিপিসি আমদানি শুরু করলে ভোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং খাতের চলমান অস্থিরতা অনেকটাই দূর হবে।

বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি রান্নার কাজে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ২০৩০ সাল নাগাদ এই চাহিদা ৩০ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা এম শামসুল আলম সতর্ক করে বলেন, বিপিসি আমদানিকৃত এলপিজি যদি সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর কার্যকর ব্যবস্থা না করে, তাহলে বাজারের মূল সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন হবে।

বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিপিসির নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে সরকারি উৎস থেকে এলপিজির সরবরাহ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।