দেউলিয়া হয়ে সেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এখন বন্ধের পথে
ভারতবর্ষে প্রায় দুই শতাব্দী ব্রিটিশ শাসনের সূচনা করা এবং ঔপনিবেশিক আধিপত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধুনিক সংস্করণ চরম আর্থিক সংকটে পড়ে দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির সম্পদ বিক্রির আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিপুল ঋণ ও করের দায়ে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে পারেনি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১ হাজার কোটি টাকা সহায়তা পেয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর উপমহাদেশে প্রভাব বিস্তারকারী এই কোম্পানি ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর সরাসরি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে চলে যায় এবং বাণিজ্যিক ক্ষমতা হারায়।
দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার পর ২০১০ সালে ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা Sanjeev Mehta কোম্পানিটির ব্র্যান্ড নাম অধিগ্রহণ করে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করেন। লন্ডনের অভিজাত এলাকা Mayfair-এ প্রায় দুই হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে একটি বিলাসবহুল বিক্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়। সেখানে উচ্চমূল্যের চা, খাবার ও পানীয় বিক্রির মাধ্যমে ঐতিহাসিক নামটিকে একটি বিশ্বমানের বিলাসবহুল ব্র্যান্ডে রূপ দেওয়ার চেষ্টা ছিল।
আরও পড়ুন: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৫.৩১ বিলিয়ন ডলার
সাম্প্রতিক আর্থিক নথি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গ্রুপ’-এর কাছে মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ছয় লাখ পাউন্ড। এছাড়া প্রায় এক লাখ তিরানব্বই হাজার পাউন্ড কর বকেয়া রয়েছে। কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য পাওনাসহ আরও প্রায় এক লাখ তেষট্টি হাজার পাউন্ড পরিশোধ বাকি।
চরম লোকসান ও ঋণের চাপে কোম্পানির অন্যান্য অঙ্গপ্রতিষ্ঠানও কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। মেফেয়ারের প্রধান স্টোর বন্ধ হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ঐতিহাসিক নামকে ঘিরে ব্যবসার শেষ অধ্যায়ও কার্যত শেষ হলো।
সঞ্জীব মেহতা কোম্পানিটি অধিগ্রহণের সময় বলেছিলেন, একসময় যে প্রতিষ্ঠান ভারত শাসন করেছিল, আজ সেটির মালিক একজন ভারতীয়। তবে আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে না পারা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সেই উচ্চাভিলাষ বাস্তবায়িত হয়নি।
বর্তমানে দেউলিয়া আদালতের তত্ত্বাবধানে কোম্পানির সম্পদ নিলামে তুলে পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধের প্রস্তুতি চলছে। এর মাধ্যমে উপমহাদেশের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত নামটির আধুনিক অধ্যায়ও সমাপ্তির পথে।





