আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

Any Akter
অর্থবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২২ অপরাহ্ন, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১:২৯ অপরাহ্ন, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন ডলারের দরপতন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে সাম্প্রতিক দুর্বলতার কারণে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯১ দশমিক ০৭ ডলারে উঠেছে। এর আগে গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম দুই মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

এদিকে ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৪৮ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ডলার সূচক কমেছে ০.১ শতাংশ। ফলে অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেনকারী বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়েছে। এতে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশের বাজারে ফের বাড়ল সোনার দাম

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক নরম মূল্যস্ফীতির তথ্য ডলারের ওপর চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪০০ ডলারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে জুলাইয়ের কর্মসংস্থান প্রত্যাশার তুলনায় অপ্রত্যাশিতভাবে কমেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির তথ্যও তুলনামূলক নরম ছিল। এসব অর্থনৈতিক সূচকের কারণে আগামী মাসে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা কমেছে।

আরও পড়ুন: আবারও বাড়ল সোনার দাম

সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বর্তমানে ৩০ শতাংশ। এক মাস আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৪৭ শতাংশ।

সাধারণত সুদের হার কম থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ-ব্যয় কমে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ে এবং এর দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বাজারের নজর এখন বুধবার প্রকাশিতব্য ফেডারেল রিজার্ভের জুলাই বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। ওই নথিতে ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের অবস্থান সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট রুপার দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৫৩ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৫২ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৩৩ দশমিক ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে।