ইতিহাসকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বিভাজন সৃষ্টি করা যাবে না: ঢাবি উপাচার্য

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৩৮ অপরাহ্ন, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১০:১০ অপরাহ্ন, ২৮ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেছেন, ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪—বাংলাদেশের ইতিহাসের এসব অধ্যায় পরস্পরবিরোধী নয়; বরং এগুলোই জাতীয় সত্তা ও ইতিহাসের ধারাবাহিক নির্মাণকে দৃঢ় করেছে। এসব ঘটনাকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বিভাজন সৃষ্টির যে রাজনৈতিক অপচেষ্টা চলছে, সে বিষয়ে জাতিকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে রোববার ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে ভিসির ঈদের নামাজ আদায়

উপাচার্য বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ কেবল স্মরণীয় কোনো ইতিহাস নয়; এটি আমাদের জাতীয় ঐক্য, পরিচয় ও অস্তিত্বের ভিত্তি। এই আত্মত্যাগ যতদিন স্মৃতিতে জীবিত থাকবে, ততদিন জাতি হিসেবে আমাদের ঐক্য অটুট থাকবে। তিনি আরও বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আত্মত্যাগের দায় স্বীকার ও দায়িত্ব পালনের উপলক্ষ।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ একটি কঠিন ও ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই সময়ে শহিদদের স্মৃতি আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের মধ্য দিয়েই শহিদদের প্রতি ঋণের কিছুটা হলেও শোধ করতে হবে।

আরও পড়ুন: জগন্নাথ হলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, ছাত্রদলের তিন নেতাকে অব্যাহতি

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শহিদ গিয়াস উদ্দিন আহমদের ছোট বোন অধ্যাপক সাজেদা বানু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

আলোচনা সভার শুরুতে শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট পরিচালক, প্রক্টর, প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে উপাচার্য ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণের কবরস্থান, জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণের স্মৃতিসৌধ, বিভিন্ন আবাসিক এলাকার স্মৃতিসৌধ এবং মিরপুর ও রায়ের বাজার শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসহ বিভিন্ন হল মসজিদে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও বিভিন্ন উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়