চবিতে নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই জামায়াতপন্থীদের পদোন্নতি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে অনিয়ম ও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশ উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সকল ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয় ইউজিসি। তবে ওই নির্দেশের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা উপেক্ষা করে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী, একজন সহকারী রেজিস্ট্রার ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতির জন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হলে ন্যূনতম ৪ বছর এবং স্নাতক ডিগ্রিধারী হলে ন্যূনতম ৫ বছর নিজ পদে দায়িত্ব পালন করার শর্ত রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই শর্ত পূরণ না করেই একাধিক সহকারী রেজিস্ট্রার পদোন্নতির আবেদন করেছেন।
গত ৬ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে পদোন্নতি নির্বাচনী বোর্ডের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন—মোহাম্মদ শহীদুল হক, আবুল হাসান মুহাম্মদ নাঈমুল্লাহ, আবদুস শুকুর, মীর মোঃ মোছলেহ উদ্দীন, মোঃ হাসানুজ্জামান, মোহাম্মদুল হক ও মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
আরও পড়ুন: ঢাবির রিসার্চ মেথডলোজি ও সায়েন্টিফিক রাইটিং প্রশিক্ষণের সনদ বিতরণ
উল্লেখ্য, আবেদনকারীদের অনেকেই ২০২৩ সালের ১৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৪তম সিন্ডিকেট সভায় সেকশন অফিসার থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। ফলে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ এখনো নীতিমালায় নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা নিজেদের বৈষম্যের শিকার দাবি করে জানান, ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তির আলোকে তারা আবেদন করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে চাকরিতে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তারা জানান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নয়।
আবেদনকারী সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদুল হক বলেন, “আমরা নিজেরা কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারি না। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া আবেদন করার সুযোগ নেই।”
অন্য আবেদনকারী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন বৈষম্যের শিকার। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করেই দেখছে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “যারা বৈষম্যের শিকার হয়েছিল, তাদের বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতা, প্রশাসনিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। গত ৩০ আগস্ট শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার দিনেও নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের ব্যস্ততার অভিযোগ ওঠে।





