চবিতে ফ্যাসিস্ট আমলের কর্মকর্তার বিতর্কিত পদোন্নতি, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

Sanchoy Biswas
মো. সাবিত বিন নাছিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:২৫ অপরাহ্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধান উপেক্ষা করে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটে প্রকৌশল অফিসের সাইদ হোসেন নামক কর্মকর্তাকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদ থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশল অফিসে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সাইদ হোসেনকে ২১ ফেব্রুয়ারি (৫৬৬তম) সিন্ডিকেট সভায় ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী, সেকশন অফিসার থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে উন্নীত হতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর দায়িত্ব পালন করতে হয়। চার বছর পূর্ণ হওয়ার পর সকল যাচাই-বাছাই শেষে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন: নরসিংদীসহ সারাদেশে ধর্ষণ ও সহিংসতার প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ

তথ্য অনুযায়ী, সাইদ হোসেনের ক্ষেত্রে এই চার বছরের শর্ত পূর্ণ হওয়ার আগেই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীতিমালা অনুসরণ করেছে কি না তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, শিক্ষক আনোয়ার আজিম আরিফের স্ত্রীর ভাগ্নে ছিলেন সাইদ হোসেন। ফ্যাসিস্ট আমলে সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি রাতারাতি সেকশন অফিসার পদে উন্নীত হন। বিগত সরকারের আমলে তিনি আওয়ামী লীগ-সমর্থিত রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের অপসারণ বা স্থানচ্যুত করা হলেও সাইদ হোসেন বহাল ছিলেন। বর্তমান প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পদোন্নতি দেওয়ায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলায় চিকিৎসা জ্ঞান ছড়িয়ে দিচ্ছে চিকিৎসা ফাউন্ডেশন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সাইফুল আজম বলেন, “কেউ অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট শাখা তার বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে লিখিত পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত কিনা দেখায়। এরপর আমরা পরীক্ষা পরিচালনা করি। যদি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতি হয়ে থাকে, সেটি ভিন্ন কেস। ফ্যাসিস্ট আমলে বৈষম্যের শিকারদের ক্ষেত্রে সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে প্রমোশনের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়। আমি রবিবার নথিপত্র দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।”

অভিযোগপ্রাপ্ত সাইদ হোসেনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।