সিংড়ায় আকস্মিক বন্যায় লোকসানে ভুট্টা চাষী

Sadek Ali
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:০৩ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২:০৪ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নাটোরের সিংড়ার চলনবিলে আকষ্মিক বন্যায় ডুবে গেছে জমি। ডুবে যাওয়া জমি থেকে ভুট্রা ভাঙা ও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষক। এমতাবস্থায় পানিতে ভুট্রা ভাঙতে শ্রমিক খরচ দিতে হচ্ছে দ্বিগুনেরও বেশি। দৈনিক ১ হাজার টাকা থেকে ১৫শ টাকা মজুরি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। 

কৃষকরা বলছেন প্রতি বিঘায় তাদের উৎপাদন খরচ হয়েছে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। ভুট্রা বিক্রি করে যা আয় আসছে তাতে লোকশান গুনতে হচ্ছে প্রতি বিঘায় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। 

আরও পড়ুন: সাভারে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সরেজমিনে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের কাউয়াটিকরী গ্রামের দক্ষিণ মাঠে গিয়ে ভুট্টা চাষীদের এমন দুর্দশার চিত্র দেখা যায়। 

এসময় কথা হয় ভুক্তভোগী কৃষকদের সাথে। তারা জানান, শুকনো জমিতে পাকা ভুট্রা ভাঙার সময়ে হঠাৎ করেই উজান থেকে নেমে আসা আত্রাই নদীর পানি চলনবিলে ঢুকে পড়ে এবং ২ থেকে ৩ দিনের ব্যবধানে আকষ্মিক বন্যার সৃস্টি হয়। ডুবে যায় পাকা ভুট্টার জমি। এখন এক বুক পানিতে নৌকা দিয়ে ভাঙতে হচ্ছে ভুট্রা। 

আরও পড়ুন: টুঙ্গিপাড়ায় মৌসুমী ফলের সমারোহ, জমে উঠেছে হাট-বাজার

কৃষক আব্দুল মমিন জানান, আমার ১০ বিঘা জমির মধ্যে ৮ বিঘা জমির ভুট্টা পানিতে ডুবে গেছে। শ্রমিক খরচ দিতে হচ্ছে দ্বিগুন। ডুবে যাওয়া ভুট্রার ফলন তো কম হচ্ছেই কালার নস্ট হওয়ায় দামও পাচ্ছি কম। 

কৃষক শাহিন জানান, আমার ৪ বিঘা জমির ভুট্রা ভেঙে পাশের বেড়াবাড়ি ও পাড়িল গ্রামের রাস্তায় এনেছি। এখানেই শুকানোর কাজ করছি। 

 তিনি আরো জানান, ১০ হাজার টাকা লিজসহ সেচ, সার ও শ্রমিক মিলে প্রতি বিঘা ভুট্টা চাষে আমার খরচ হয়েছে ২২ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। ফলন পাচ্ছি ১২ থেকে ১৫ মণ। প্রতি মণ ভুট্রার বর্তমান বাজার ৯শ থেকে ১ হাজার টাকা। সব মিলে উৎপাদন খরচ তো উঠছেই না লোকশান গুনতে হচ্ছে প্রতি বিঘায় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা।  

কৃষক তমেজ উদ্দিন জানান, আমাদের এই বিলের বেড়াবাড়ি, কাউয়াটিকরি ও পাড়িল গ্রামের মাঠে দুই ধাপে আকষ্মিক বন্যায় বোরো ধানের সময় একবার লোকশান হয়েছে। ভুট্রা ভাঙার সময় আরেকবার লোকশানে পড়লাম। দুই আবাদেই আমরা এবছর চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় শতভাগ জমির ভুট্রা ঘরে তুলেছে কৃষক। ফলনও হয়েছে ভালো। তবে সম্প্রতি আকষ্মিক বন্যায় বিলের নিচু এলাকায় কিছু কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকের পাশে থেকে কৃষিপ্রণোদনা,পরামর্শ সহ সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।